মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির অর্থ দ্রুত প্রদানের দাবি, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের প্রদত্ত উপবৃত্তির অর্থ দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থাকায় অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিক্ষা ব্যয় নির্বাহে উপবৃত্তির অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও সময়মতো অর্থ না পাওয়ায় অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মাধ্যমিক পর্যায়ের বহু শিক্ষার্থী এখনো তাদের প্রাপ্য উপবৃত্তির অর্থ হাতে পায়নি। ফলে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। খাতা-কলম, বইপত্র, কোচিং ও যাতায়াত ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতে প্রয়োজনীয় অর্থের সংকট দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে একাধিক অভিভাবক জানান, বর্তমান সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ বহন করা অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার যে উপবৃত্তির ব্যবস্থা চালু করেছে, তা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে অর্থ প্রদান না হওয়ায় অনেকেই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জের স্থানীয় অভিভাবক আকরাম হোসেন বলেন, “উপবৃত্তির টাকা পেলে সন্তানের শিক্ষা ব্যয়ের একটি অংশ সহজে মেটানো যায়। আমরা আশা করছি সরকার দ্রুত এই অর্থ শিক্ষার্থীদের মাঝে পৌঁছে দেবে।”

শিক্ষকরাও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজগঞ্জ এলাকার একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) বলেন, “উপবৃত্তি শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি ও পড়াশোনায় আগ্রহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সময়মতো উপবৃত্তির অর্থ প্রদান করা হলে শিক্ষার্থীরা আরও উৎসাহ নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবে।”

শিক্ষার্থীরাও দ্রুত উপবৃত্তির অর্থ প্রদানের দাবি জানিয়েছে। রাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তপতী রাণী বলে, “উপবৃত্তির টাকা দিয়ে আমি বই, খাতা ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ কিনে থাকি। আগামী সপ্তাহে অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষা। দীর্ঘদিন ধরে টাকা না পাওয়ায় কিছুটা সমস্যায় পড়েছি। দ্রুত টাকা পেলে আমাদের উপকার হবে।”

শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে উপবৃত্তি কর্মসূচি অত্যন্ত কার্যকর। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপবৃত্তির অর্থ বিতরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এদিকে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে দ্রুত উপবৃত্তির অর্থ বিতরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তাদের প্রত্যাশা, শিক্ষাবান্ধব সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির সুফল সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাবে এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।