রাত পোহালেই নির্বাচন, পছন্দ নিয়ে মুখ খুলছেন না ভোটাররা

নানাবিধ বির্তক, সমালোচনা ও অনিশ্চিয়তার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর এ নির্বাচনকে ঘিরে শেষ সময়ে এসেও পটুয়াখালী ০৪ আসনের ভোটারদের মধ্যে চলছে চুল ছেঁড়া বিশ্লেষণ। আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগ সর্মথক বা ভোটাররা।
রাজনৈতিক ভাবুকেরাও বলছেন, দীর্ঘ বছর
ধরে আওয়ামীগের দখলে থাকা এ আসনটিতে
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও ভোটের মাঠে তাদের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের বাইরে থেকেও প্রার্থীদের প্রভাবিত করছে দলটির কর্মী সর্মথকরা।
রাজনৈতিক চিন্তাবিদদের ধারণা, অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে আওয়ামী ভোটার অংশটি বদলে দিতে পারে এ আসনে লড়াকু যে কোন প্রার্থীর বিজয়ী সম্ভবনা। ফলে গোপন ব্যালটের অদৃশ্য চিন্তার ভাজ এখন জনপ্রিয় প্রার্থীর কপালেও। তবে সব চেয়ে বেশি হিসেব কষা হচ্ছে ধরি মাছ, না ছুঁই পানি নারী ভোটারদের নিয়ে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমন সব চিত্র। বলা চলে এ আসনের নারী ভোটারদের উপস্থিতি হবে লক্ষনীয়। এবং পুরুষ ভোটারদের তুলনায় তাদের সরব উপস্থিতি বদলে দিতে পারে যে কোন দলের প্রার্থীর হিসেব নিকেষ। যা নির্বাচনী সভা,সমাবেশের উপস্থিতির আড়ালে এক নিরব আধিপত্য।
ফলে মৌখিক সমর্থনের অগোচরেও ভোটারদের রয়েছে মৌন সমর্থন যা একাধিক ভোটারদের সঙ্গে গোপন আলাপকালে জানা গেছে। তাই পটুয়াখালী ০৪ আসন থেকে বিজয়ী হয়ে কে যাচ্ছেন আগামী সংসদ প্রতিনিধি হয়ে তা ভোট গননার আগ পর্যন্তও অধরাই রয়েছে।
তবে এ আসনে ভোট যুদ্ধে অংশ নেওয়া তিন প্রার্থীর মধ্যে হেভিওয়েট প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেনের কর্মী সমর্থকরা বলছেন, বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী।
যার পক্ষে আওয়ামী অনেক স্থানীয় লিডার এবং নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে ভোট প্রার্থনা সহ ভোট দেওয়ার অঙ্গিকার করেছেন। এমনকি এবিএম মোশাররফ হোসেনের নির্ভরতায় মিছিল, মিটিং সহ সভা- সমাবেশেও যোগ দিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ এ দলটির নেতাকর্মীরা। তাই ধানের শীষ প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত বলে ভোট গ্রহন পরবর্তী সময়ের অপেক্ষায় মুখিয়ে বিএনপি সমর্থকরা।
অপরদিকে এ আসনে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের হাত পাখা মার্কার প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনি মাঠে লড়াই করছেন, সাবেক বিএনপি নেতা ও সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান। মূলত তিনি এ আসনে এবিএম মোশাররফ হোসেনের বিপরীতে শক্ত অবস্থানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জানা গেছে এই প্রার্থীর দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে নারী ভোটারদের একটি বিশ্বস্ত ভোট ব্যাংক দৃষ্টান্ত রাখবে এই সংসদ নির্বাচনে। যা অনেকাংশেই বদলে দিতে পারে পুরুষ ভোট গণনার অনুপস্থিতি চিন্তাধারা। ফলে মোস্তাফিজুর রহমানের বিজয়ের বিষয়টিও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তার কর্মী সমর্থকরা।
এছাড়া কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী, মহিপুর- কুয়াকাটা নিয়ে গঠিত এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১১ দলীয় জোটের ড. জহির উদ্দিন আহমেদ। নির্বাচনি এলাকায় তার কর্মী সমর্থকদের তেমন হাঁকডাক না থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে রাঙ্গাবালী দ্বীপ এলাকায় রয়েছে তার বেশ ভক্ত সমর্থক। ওই উপজেলায় তিনি ভোটারদের একটি বড় অংশ তার বাগে নিয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকেই।
এ আসনে ১১১ টি ভোট কেন্দ্রের ৫৫৪ টি কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে গনভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহন। তাই কেন্দ্রগুলোতে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পাঠানো হয়েছে ব্যালট পেপার ও নির্বাচনের আনুসঙ্গিক সরঞ্জাম। দেশের সর্বদক্ষিণের এ আসনটিতে ৩ লাখ ১০ হাজার ৬ শ‘ ৮ জন ভোটারের বিপরীতে লরবেন ৩ জন প্রার্থী।
উপজেলা সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউসার হামিদ বলেন, সুষ্ঠু ও সুন্দর ভোট গ্রহনের লক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করা হয়েছে। এছাড়া ঝুকিপূর্ণ সেন্টারগুলোতে অতিরিক্ত সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।














