প্রশাসনের বিরুদ্ধে
কলারোয়ায় জব্দকৃত ১২০মণ নিষিদ্ধ মাগুর মাছ বিনষ্টের বদলে ‘বিক্রি’ করে দেয়ার অভিযোগ

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় জব্দকৃত ১২০মণ নিষিদ্ধ মাগুর মাছ বিনষ্টের বদলে ‘বিক্রি’ করে দেয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে। ভ্রাম্যমান আদালতে ‘দফারফায়’ ট্রাকভর্তি নিষিদ্ধ মাছসহ প্রভাবশালী ব্যবসায়ীকে আটকের পর নামমাত্র জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আর জব্দকৃত মাছগুলো বিনষ্টের সরকারি নির্দেশনা থাকলেও প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সেগুলো বিনষ্টের বদলে বাজারে বিক্রির সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার চাঞ্চল্যকর এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলারোয়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাঈদুর রহমান রেজার নেতৃত্বে একটি দল কলারোয়া পৌর সদরের তুলশীডাঙ্গা ডায়াবেটিক হাসপাতালের সামনে অভিযান চালিয়ে ১২০ মণ আফ্রিকান মাগুরসহ একটি ট্রাক জব্দ করে। আটক করা হয় অসাধু মাছ ব্যবসায়ী ও হেলাতলা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম ওরফে মাগুর আনারকে। আটকের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ও মাছ ভর্তি ট্রাকটি উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিয়ে আসা হয়।
পরে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেবুন নাহার তার কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অভিযুক্তকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
আদালত থেকে মাছগুলো তাৎক্ষণিক বিনষ্টের মৌখিক নির্দেশ দেয়া হলেও বাস্তবে ঘটেনি তার প্রতিফলন।
অভিযোগ উঠেছে, প্রায় ১০ লক্ষ টাকা বাজার মূল্যের এই মাছগুলো কতিপয় অসাধু ব্যক্তির মধ্যস্থতায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে দফারফা করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার ওই মাছগুলো ঢাকাতে চড়া দামে বিক্রি করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
এই নজিরবিহীন ঘটনায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে একে অপরকে দোষারোপের প্রবণতা দেখা গেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেবুন নাহার জানান, ‘আমি মাছ বিনষ্টের আদেশ দিয়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিলাম (মামলা নং ১-২০২৬)। মাছ কোথায় বা কীভাবে নষ্ট করা হয়েছে তা আমি জানি না।’
তবে সাংবাদিকদের কাছে তিনি মাছ বিনষ্টের কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাঈদুর রহমান রেজা বলেন, ‘আমার কাজ ছিল অপরাধীকে হাজির করা, আমি তা করেছি। মাছ জব্দ, অভিযুক্তকে শাস্তি ও মাছ ছেড়ে দেয়ার এখতিয়ার আমার না, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের।’
বিষয়টি নিয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, ‘মাছ ও পরিবহন জব্দ করার পর তা ছেড়ে দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। এই ঘটনার দায় সংশ্লিষ্ট বিচারকের ওপর বর্তায়। আমরা পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখব।’
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত আনোয়ারুল ইসলাম এর আগেও দু’বার নিষিদ্ধ মাগুরসহ ধরা পড়ে মুচলেকা দিয়েছিলেন। বারবার ছাড় পেয়ে যাওয়ায় তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
নিষিদ্ধ এই মাছগুলো মানব শরীর, পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ হওয়া সত্ত্বেও খোদ প্রশাসনের এমন রহস্যজনক ভূমিকা কলারোয়ায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।






























