সমস্যা কাটিয়ে কেপিএমকে লাভজনক সচল করার প্রত্যয়: ডিসি নাজমা আশরাফী

রাঙ্গমটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফি কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনায় অবস্থিত কর্ণফুলী পেপার মিল পরিদর্শন করেছেন। রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে তিনি পুরো কেপিএম কারখানা ঘুরে দেখেন।

এ সময় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন যে, কেপিএম কারখানাটি প্রায় ৭৫ বছরের পুরোনো হওয়া সত্ত্বেও এখনও উচ্চমানের কাগজ উৎপাদন করছে।

তবে, কেপিএম-এর উৎপাদন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। কারখানাটিকে কীভাবে পুনরায় চালু করা যায়, সে বিষয়ে তিনি কেপিএম গেস্ট হাউসে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় করেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী।

ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফি কারখানাটিকে সম্পূর্ণরূপে চালু করার জন্য সমস্যা সমাধানে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতেও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান।

এ প্রসঙ্গে কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, “কেপিএম ১৯৫৩ সাল থেকে প্রায় ৭৫ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন ধরনের কাগজ উৎপাদন করে আসছে।” তবে, কয়েক দশক ধরে চালু থাকার পর বর্তমানে কারখানাটিতে নানা ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে।

এছাড়া, দক্ষ জনবলের সংখ্যাও ব্যাপকভাবে কমে গেছে। কাগজ উৎপাদনের কাঁচামাল কিনতে প্রচুর অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে। বর্তমানে এক মেট্রিক টন কাগজ উৎপাদনে উৎপাদন খরচ ২ লাখ টাকার বেশি। কিন্তু কেপিএম বাজারে প্রতি টন দেড় লাখ টাকা সরকার-নির্ধারিত মূল্যে কাগজ বিক্রি করছে। অর্থাৎ, প্রতি টন কাগজে কেপিএমের ৫০ হাজার টাকারও বেশি লোকসান হচ্ছে।

মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন যে, গত ৪ দশক ধরে কেপিএমের বিএমআরই (BMRE) করা হয়নি। যার কারণে কারখানার সুযোগ-সুবিধা ও ভবনগুলো জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কেপিএম এলাকায় ৭টি নতুন কারখানা স্থাপনের একটি নির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। যা এখন বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফি বলেন, কর্ণফুলী পেপার মিল বাংলাদেশের একটি জাতীয় সম্পদ। যেহেতু এই কারখানাটি রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত, তাই এর উন্নয়নের দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের। তিনি বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করে আমি কেপিএম-এর সার্বিক সমস্যাগুলো প্রত্যক্ষ করেছি।

ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর সমস্যা সমাধানের উপায় সম্পর্কেও আমাকে জানানো হয়েছে। কেপিএম-এর স্বার্থে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীঘ্রই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সার্বিক বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। আশা করি, এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ইতিবাচক সাড়া দেবে।