যশোরের মনিরামপুর ও রাজগঞ্জে ইটভাটার ট্রাকে সড়ক নষ্ট, জনদুর্ভোগ চরমে

যশোরের মনিরামপুরসহ আশপাশের এলাকাজুড়ে ইটভাটার মাটিবাহী ভারী ট্রাকের নিয়ন্ত্রণহীন চলাচলে স্থানীয় সড়কগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত মাটি বহন, অতিরিক্ত ওজন ও একই রুটে দীর্ঘদিন ধরে ভারী যান চলাচলের কারণে সড়কের উপরিভাগ ভেঙে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। সড়কের উপর ট্রাক থেকে পড়ে যাওয়া মাটি থাকায়, সামান্য বৃষ্টিতেই এসব সড়ক কাদায় পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে ওঠে। মোটরসাইকেল, ইজিবাইক থেকে শুরু করে ছোট পরিবহন প্রায়ই নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনায় অনেকে আহতও হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে আরও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চললেও তদারকি নেই বললেই চলে। রাজগঞ্জের চালুয়াহাটি ইউনিয়নের আটঘরা গ্রামের বাসিন্দা মো. জাকির হোসেন বলেন, “ইটভাটার ট্রাকগুলো কোনো নিয়মকানুন মানে না। দিন-রাত যেভাবে খুশি চলাচল করে। সড়ক ভেঙে গর্ত হয়ে গেছে। একটু বৃষ্টি হলেই মোটরসাইকেল নিয়ে চলা অসম্ভব হয়ে পড়ে।”

উপজেলার ভান্ডারি মোড়ের ব্যবসায়ী শাহ আলম জানান, “সড়কের এই অবস্থা আমাদের ব্যবসায় প্রভাব ফেলছে। মালামাল নিতে গাড়ি আসে না। বাচ্চারা স্কুলে যেতে ভয় পায়। এভাবে আর কতদিন চলবে?” রাজগঞ্জ এলাকার রতনদিয়া এলাকার যুবক রবিউল ইসলাম বলেন, “দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গত সপ্তাহেই নেংগুড়াহাট সড়কে দু’জন লোক পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে। যদি এখনই কড়া ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে সময় লাগবে না।”

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবেই ট্রাক মালিকরা ইচ্ছেমতো যাতায়াত করছে। ফলে সড়কের স্থায়িত্ব নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বেড়েই চলেছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। তাদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে ভারী যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ, বিকল্প রুট নির্ধারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়কসমূহের জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজ শুরু করা জরুরি। তা না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষায়, “সড়ক ঠিক না হলে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে না। তাই এখনই কার্যকর পদক্ষেপ চাই।”