চাঁদপুর

হাজীগঞ্জে ধেররা মৎস্য আড়ৎ নিয়ে বিরোধ, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারি

চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার ধেররা বাজারে অবস্থিত ধেররা মৎস্য আড়ৎকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ নতুন মোড় নিয়েছে। গত ১৪ এপ্রিল পৌর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় মালিক পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার পর বিষয়টি গড়ায় উচ্চ আদালত পর্যন্ত। অবশেষে ৩০ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে মহামান্য উচ্চ আদালত ভার্চুয়াল শুনানিতে উক্ত আড়তের ইজারা সংক্রান্ত কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলা নববর্ষের দিন ১৪ এপ্রিল ধেররা মৎস্য আড়ৎ এলাকায় পৌর কর্তৃপক্ষ ও মালিক পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয় পরিস্থিতি। এতে অন্তত কয়েকজন আহত হন এবং কয়েকটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনার জেরে আড়তের মালিক পক্ষ অভিযোগ করে যে, পৌর কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে আড়ৎটি ইজারা প্রদান করেছে, যা তাদের স্বত্বাধিকার ক্ষুণ্ন করছে। এর প্রেক্ষিতে মালিক পক্ষ উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয় এবং ইজারা বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানায়।
মালিক পক্ষের প্রতিনিধি শাখাওয়াত হোসেন জানান, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে এই আড়তের মালিকানা ভোগ করে আসছি। কিন্তু হঠাৎ করেই পৌর কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে ইজারা প্রদান করে আমাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। এজন্য আমরা আদালতের দ্বারস্থ হই।”
তিনি আরও জানান, আজ ৩০ এপ্রিল মহামান্য উচ্চ আদালত ভার্চুয়াল শুনানিতে ধেররা মৎস্য আড়তের উক্ত ইজারা কার্যক্রমকে অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিল করেছেন এবং একই সঙ্গে পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। ফলে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পৌর কর্তৃপক্ষ এ সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।
এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের মধ্যে এ রায় নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ন্যায়বিচারের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমানে ধেররা মৎস্য আড়ৎ এলাকায় পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে যেন আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দৃষ্টি এখন আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার দিকে। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধান হবে এবং বাজারে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে।