নজরুলের আদর্শ ও চেতনায় মুখর চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও আবৃত্তিচর্চার অন্যতম সংগঠন অগ্নিবীনা আবৃত্তি পরিষদ, হাজীগঞ্জ-এর উদ্যোগে হাজীগঞ্জের একটি ভবনে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে কবির জীবন, সাহিত্য, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার নানা দিক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয় জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অগ্নিবীনা আবৃত্তি পরিষদের সভাপতি রাশিদা বেগম।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি মানবতা, সাম্য, প্রেম ও সম্প্রীতির কবি। নতুন প্রজন্মের মাঝে নজরুলচর্চা ছড়িয়ে দিতে এমন সাংস্কৃতিক আয়োজন নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের সাহিত্য ও সংস্কৃতিমুখী করে গড়ে তুলতে আবৃত্তি, সংগীত ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই। অগ্নিবীনা আবৃত্তি পরিষদ ভবিষ্যতেও নজরুলের আদর্শ ও বাংলা সংস্কৃতির বিকাশে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আবৃত্তি প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীরা জাতীয় কবির বিভিন্ন কবিতা আবৃত্তি করে উপস্থিত দর্শক ও বিচারকদের মুগ্ধ করেন। প্রতিযোগিতা শেষে বিচারকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম স্থান অর্জন করেন তাহা, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন হাসিবুল এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন সত্যম দেবনাথ। পরে বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাতৃভূমি কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক সুজন দাস। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রযুক্তিগত শিক্ষার পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা একজন মানুষকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। তরুণদের মাঝে নজরুলের আদর্শ ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অগ্নিবীনা আবৃত্তি পরিষদের সদস্য ঋতু পর্ণা সরকার, সীমা রানী দেবনাথ ও শারমীন আক্তারসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য, সংস্কৃতিপ্রেমী ব্যক্তি, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। কবিতা আবৃত্তি, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উপস্থিত সবাই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অনুষ্ঠানের শেষে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে এবং নজরুলের সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে আয়োজকরা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।