"সরকারি দপ্তরে টাকা ছাড়া কাজ হয় না, দিস ইজ রিয়েলিটি অব বাংলাদেশ"
তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চাওয়ায় সাভারের প্রকল্প কর্মকর্তার বিস্ফোরক মন্তব্য

“সরকারি অফিসে আমাকেও টাকা দিয়ে কাজ করাতে হয়। পাসপোর্ট অফিসে, এনআইডি অফিসে টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না। দিস ইজ দ্য রিয়েলিটি অব বাংলাদেশ।”
তথ্য অধিকার আইনে সরকারি প্রকল্পের তথ্য চাওয়ায় গণমাধ্যমকর্মীর সামনে ঠিক এভাবেই নিজের ক্ষোভ ও বিস্ফোরক মন্তব্য প্রকাশ করেছেন সাভার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. ফাইজুল ইসলাম।
একই সঙ্গে তার অধীনস্থ প্রকল্পগুলোতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ অনিয়ম বা কোথাও কোথাও অস্তিত্ব না থাকার বিষয়টিও আকারে-ইঙ্গিতে স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতি বছর প্রতিটি উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের জন্য কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য), কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) এবং টিআর (টেস্ট রিলিফ)-এর মতো বিভিন্ন বিশেষ প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব প্রকল্পের সিংহভাগ তথ্যই সাধারণ নাগরিকদের অজানা থেকে যায়।
সম্প্রতি সাভার উপজেলায় বাস্তবায়িত এ ধরনের কিছু প্রকল্পের তথ্য জানতে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেন ‘আওয়ার নিউজ বিডি ডটকম’-এর প্রতিবেদক। তথ্য দেওয়ার পরিবর্তে ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মকর্তা ফাইজুল ইসলাম বলেন, “এটার দরকার নেই। আপনাদের মতো ৫ জন সাংবাদিক আমার কাছে প্রতিদিন আসে।”
বক্তব্যের এক পর্যায়ে দেশের সরকারি দপ্তরের ঘুষ-দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার কথার মাঝে থামাবেন না। সরকারি অফিসে আমাকেও টাকা দিয়ে কাজ করাতে হয়। পাসপোর্ট অফিসে, এনআইডি অফিসে টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না। দিস ইজ দ্য রিয়েলিটি অব বাংলাদেশ।” তবে নিজের দপ্তরের বিষয়ে দাবি করে তিনি বলেন, “আমার অফিসে ১টি টাকারও কোনো কথা কেউ বলতে পারবে না।”
যদিও নিজের দপ্তরের সততা দাবি করলেও মাঠপর্যায়ের অনিয়মের স্বীকার করে এই কর্মকর্তা বলেন, “আপনি লিস্ট দেখে স্পটে (ঘটনাস্থল) গেলে বুঝবেন না। প্রকল্পগুলোতে ১০/১৫ পার্সেন্ট নাও থাকতে পারে, আবার কোথাও প্রকল্প নাও পেতে পারেন—তার সবকিছু আমি জানি। আমার প্রকল্পগুলোতে স্পেসিফিক (নির্দিষ্ট) কিছু থাকলে বলুন, আমরা ডিসকাস (আলোচনা) করবো।”
এদিকে আওয়ার নিউজ বিডি ডটকম-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী সাভারের কয়েকটি বাস্তবায়িত প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। প্রকল্পগুলোর প্রকৃত কাজের সঙ্গে বরাদ্দের ব্যয়ের সামঞ্জস্যতা জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় ঠিকাদার জানান, মাঠপর্যায়ের কাজের চেয়ে কাগজপত্রের বরাদ্দে ব্যয়ের ক্ষেত্রে গড়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বড় ধরনের অসঙ্গতি ও অমিল রয়েছে।
এসব অনিয়ম ও অসঙ্গতির বিষয়ে জানতে ঢাকা জেলার সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন আল-ওয়াদুদ-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে জানান, “আমি এখন ঢাকাতে নাই, প্রায় ৬ মাস আগে ঢাকা থেকে অন্যত্র বদলি হয়েছি। আমার সময়ে এই ধরনের কোনো বিষয় কানে আসেনি।”
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ কাজের অনুমোদিত সরকারি তালিকায় চলতি বছরের ৩ মার্চ (০৩/০৩/২০২৬ইং) তারিখ সালাহ উদ্দিন আল-ওয়াদুদের স্বাক্ষর রয়েছে। বদলি হওয়ার দাবি করলেও সরকারি নথিতে নিজের স্বাক্ষরের এই অসঙ্গতির বিষয়ে পরবর্তীতে পুনরায় তার কাছে জানতে চাওয়া হলে, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি প্রতিবেদককে কোনো সদুত্তর দেননি।



















