বাবাকে হত্যার পর মেয়ের নাম্বারে ফোন ‘তর বাবারে মারতাম চাইছলাম না,মইর্যা গেছে

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে আব্দুল বারেক আকন্দ ওরফে মজনু মুন্সি (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার (৫ জুলাই) রাত আনুমানিক পৌনে ১০টার দিকে স্থানীয় বয়রা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে চন্দ্রপাড়া সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর নিহতের মোবাইল নাম্বার থেকে মেয়ের নাম্বারে ফোন করে বলা হয়,তর বাবারে মারতাম চাইছিলাম না হেরা কয়েকটা ফার (ঘা) বেশী দিছে, কিন্তু মইর্যা গেছে”-এই কথা বলেই ফোনটি কেটে দিয়ে বন্ধ করে দেয়। সোমবার (৬ জুলাই) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহতের ময়না তদন্ত চলছে।
নিহত আব্দুল বারেক আকন্দ গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের দুর্বারচর গ্রামের মৃত আব্বাস আলী আকন্দের ছেলে। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে মাজহারুল ইসলাম আকাশ বিজিবি কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (৫ জুলাই) রাত আনুমানিক পৌনে ১০টার দিকে বয়রা বাজার থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন মজনু মুন্সি। পথে চন্দ্রপাড়া সড়কে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে হামলা চালায়।
এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে পড়ে ছিলেন। চিৎকার শুনে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বর্তমানে মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানা সুরতহাল প্রস্তুত এবং ময়নাতদন্তের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করছে।
নিহতের ছেলে মাজহারুল ইসলাম আকাশ জানান, তার বাবা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন ছিনতাইকারী পথ আটকায়। তিনি তাদের চিনে ফেলায় ছুরিকাঘাত করে ফেলে রেখে যায়। মৃত্যুর আগে তাঁর বাবা পশ্চিম পাড়ার তিন কিশোর হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত। তবে নাম বলতে পারেনি।
এছাড়া ঘটনার পরপরই বাবার মোবাইল ব্যবহার করে বোন বৃষ্টির নাম্বারে ফোন দিয়ে একজন হত্যাকান্ডের কথা স্বীকারও করে।
এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।






























