খাগড়াছড়িতে শিশু ধর্ষণের দায়ের চা দোকানির মৃত্যুদন্ড, দীঘিনালায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে মামলা

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড় উপজেলাতে শিশু ধর্ষণের দায়ের চা দোকানির মো: শাহিন নামে একব্যক্তিকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে। জেলার রামগড়ে সাত বছর বয়সী এক মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশুকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর মামলায় অভিযুক্ত চা-দোকানি মো: শাহিনকে(৫৩) মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।
সোমবার(৬ই জুলাই) দুপুরে খাগড়াছড়ির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শায়লা শারমিন এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দন্ড প্রাপ্ত আসামি মো: শাহিন আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত বছরের (২০২৫ সাল) ২৫শে জুলাই খাগড়াছড়ির রামগড় এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির এক মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশুকে খাবারের লোভ দেখিয়ে নিজের দোকানে নিয়ে যান মো: শাহিন। সেখানে শিশুটিকে পাশবিকভাবে ধর্ষণ করা হয়। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চা-দোকানি শাহিনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে।
মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে রায় ঘোষণা করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ ও স্থানীয় সচেতন মহল। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) সৃজনী ত্রিপুরা রায়ের পর গণমাধ্যমকে বলেন, মাত্র এক বছরের মধ্যে এই মামলার রায় ঘোষণা হওয়ায় আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। এর মধ্য দিয়ে শুধু ন্যায়বিচারই নিশ্চিত হয়নি, বরং সমাজে অপরাধীদের কাছে একটি কঠোর বার্তাও পৌঁছেছে।
এদিকে নিম্ন আদালতের এই রায়ের পর অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবী বেদারুল ইসলাম জানান, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে উচ্চ আদালতে(হাইকোর্ট) আপিল করবেন।
অপরদিকে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় ১৩বছর বয়সী এক শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২রা জুলাই রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে দীঘিনালা উপজেলার ১নম্বর মেরুং ইউনিয়নের ছোট মেরুং এলাকার ঈদগাহ মাঠের পশ্চিম পাশে ইটের সলিং সড়কের দক্ষিণ পাশে নির্জন স্থানে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আত্মীয়ের বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে যান এবং সেখানে বলাৎকার করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর বাড়িতে ফিরে শিশুটি শারীরিকভাবে অসুস্থতা ও ব্যথার কথা জানালে তারা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তাকে প্রথমে দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খাগড়াছড়ি জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে রোববার(৫ই জুলাই) দীঘিনালা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছোট মেরুং এলাকার মো: লিটন(৪৫)-কে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো: ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার তদন্ত ভার এসআই(নিরস্ত্র) মো: নাসির উদ্দিনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও চিকিৎসা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






























