নরসিংদী ড. মঈন খানের মা বেগম খোরশেদা বানুর ১৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনের সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের মা এবং খান ফাউন্ডেশন ও দি মিলেনিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপারসন বেগম খোরশেদা বানুর ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১১ জুলাই, শনিবার।
দিবসটি উপলক্ষে আজ বিকেল ৩টায় নরসিংদী সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নের পাকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
বেগম খোরশেদা বানু নরসিংদী জেলার সদর উপজেলার (তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ মহকুমা) বেলাবো গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম আবদুল গফুর ছিলেন ব্রিটিশ আমলের এই অঞ্চলের প্রথম ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, যিনি এলাকায় ‘ডেপুটি সাহেব’ নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন।
আট ভাই-বোনের মধ্যে দ্বিতীয় খোরশেদা বানু ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও মিষ্টভাষী। তিনি ঢাকার বিখ্যাত ইডেন স্কুলের ছাত্রী ছিলেন (যে ভবনটি বর্তমানে বাংলাদেশ সচিবালয় হিসেবে ব্যবহৃত)। আমৃত্যু জ্ঞানপিপাসু এই মহীয়সী নারী বিশ্ববরেণ্য মণীষী ও নোবেল বিজয়ীদের সাহিত্যকর্ম অধ্যয়নে বিশেষ অনুরাগী ছিলেন।
তার ভাইদের মধ্যে ছিলেন ডাক ও তার বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক নাসিরউদ্দিন আহমদ, শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন আহমদ এবং বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. রশিদউদ্দিন আহমদ।
১৯৪২ সালে তিনি তৎকালীন ক্যাবিনেট সচিব ও সফল খাদ্যমন্ত্রী আবদুল মোমেন খানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি এক পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানের জননী। তার একমাত্র পুত্র ড. আব্দুল মঈন খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও সাবেক মন্ত্রী।
তার দুই কন্যা ফৌজিয়া বেগম ও ড. সেলিমা বেগম উভয়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন এবং বর্তমানে তারা যথাক্রমে কানাডা ও আমেরিকায় কর্মরত আছেন।
বেগম খোরশেদা বানু কেবল একজন আদর্শ গৃহিণীই ছিলেন না, বরং সমাজসেবায় তার অবদান অপরিসীম। ১৯৮৮ সালের প্রলয়ংকরী বন্যার পর দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে তিনি স্বামী আবদুল মোমেন খানের স্মরণে ‘খান ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে এই ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘দি মিলেনিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠিত হয়।
তিনি তার মোমেনবাগস্থ নিজস্ব বাসভবনটি চিরস্থাযীভাবে এই প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবহারের জন্য দান করে গেছেন। এ ছাড়াও তিনি তার নিজ গ্রাম বেলাবোতে শহীদ গিয়াসউদ্দিন গার্লস হাই স্কুলের উন্নয়নে জমি দান করে গেছেন।
























