নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বৈধ স্ত্রীকে ধর্ষণ দাবী করল কন্যার পিতা, থানায় মামলা প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে গত ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে মো. তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুর্গাপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে, তাজুল ইসলামের পক্ষে তার বড় ভাই মো. রমজান আলী লিখিত অভিযোগ এনে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে রমজান আলী বলেন, তাজুল ইসলামের সঙ্গে সুমা আক্তারের পূর্বপরিচয় ছিল। চলতি বছরের জুলাই মাসের শেষের দিকে সুমা আক্তার তাজুল ইসলামকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পরে উভয়ের সম্মতিতে গত ১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে তাদের বিবাহ সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, গত ৪ আগস্ট স্থানীয় খোকন মেম্বারের বাড়িতে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে সুমা আক্তার, তার বাবা আবুল কাসেম, তাজুল ইসলামসহ উভয় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে পারিবারিকভাবে বিষয়টি সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়।

পরবর্তীতে সুমা আক্তারের দাদী মালেহা খাতুন তাজুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে সুমাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। তাজুল ইসলাম এতে সম্মতি দেন এবং উপস্থিত লোকজনের সামনে সুমা আক্তারকে তার দাদীর সঙ্গে বাড়িতে বেড়াতে যেতে দেওয়া হয়। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন এলাকাবাসীরা।

রমজান আলী বলেন, এসব ঘটনার পরও ১৮ আগস্ট সুমা আক্তারের বাবা সংবাদ সম্মেলন করে তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন এবং পরবর্তীতে তাকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে এক মামলা করা হয়েছে বলে তারা জানতে পারেন।

তাদের দাবি, তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পুর্ন মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে এ বিষয়ে প্রকৃত সত্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এলাকার কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি আর্থিক বা অন্য কোনো সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণœ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

রমজান আলী সাংবাদিকদের আহŸান জানান, কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর এককভাবে নির্ভর না করে উভয় পক্ষের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র, সাক্ষীদের বক্তব্য ও ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠভাবে সংবাদ প্রকাশ করার জোর দাবী জানান।

এসময় এলাকাবাসীর পক্ষে, মোস্তাফিজুর রহমান, মমিন হোসেন, মো. সুরুজ আলী, মো. সাহান মিয়া, ওলিউর রহমান, মো. কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।