বগুড়ায় নায়েমের ৬৪তম স্যাটেলাইট প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী

শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বগুড়ায় জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম)-এর তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত ‘৬৪তম স্যাটেলাইট প্রশিক্ষণ কোর্স অন টিচার্স প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ৫ সেপ্টেম্বর থেকে বগুড়া জেলার সদর, গাবতলী, শেরপুর, শিবগঞ্জ ও নন্দীগ্রাম উপজেলায় একযোগে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। বগুড়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সার্বিক সহযোগিতায় শিবগঞ্জ উপজেলার প্রশিক্ষণকেন্দ্র ছিল শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এতে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ৪০ জন শিক্ষক অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে অভিরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকও ছিলেন।

পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও গুণগত মান উন্নয়ন, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ, শিক্ষাদান পদ্ধতি ও কৌশল, শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সুসম্পর্ক, শিক্ষণ-পদ্ধতি, শিক্ষক সহায়ক উপকরণ ও শিক্ষা উপকরণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া প্রশিক্ষণ চলাকালে পাঠ পরিকল্পনা তৈরি, নমুনা পাঠদান, ধারাবাহিক মূল্যায়ন, গঠনমূলক মূল্যায়ন, কর্মদক্ষতা ও উপস্থিতির ওপর প্রশিক্ষণার্থীদের ১০০ নম্বরের মধ্যে মূল্যালয়ন করা হয়।

মূল্যায়নের ফলাফলে দেখা যায়, ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ১৪ জন এ প্লাস, ২৪ জন এ এবং ২ জন এ মাইনাস গ্রেড অর্জন করেছেন। এতে শতভাগ প্রশিক্ষণার্থী কৃতকার্য হন।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নায়েমের গবেষণা ও তথ্যায়ন বিভাগের পরিচালক ড. মো. আতিকুল ইসলাম পাঠান। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তারিকুল আলম এবং শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. তাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নায়েমের শিক্ষক প্রশিক্ষক মুনমুন মুহুরী।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নায়েমের শিক্ষক প্রশিক্ষক মো. মিজানুর রহমান ও মোসা. উম্মে কুলসুম। এ সময় শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. আতিকুল ইসলাম পাঠান বলেন, দক্ষ ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের দক্ষতা ও সৃজনশীল পাঠদান শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বগুড়ার শিক্ষকদের আরও দক্ষ করে তুলতে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি।

বিশেষ অতিথি মো. তারিকুল আলম প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশংসা করে বলেন, প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা শুধু সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তা শ্রেণিকক্ষে প্রয়োগ করতে হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সহজ, আনন্দময় ও কার্যকর পরিবেশে শিখতে পারবে।

পরে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের পুরস্কার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া সব শিক্ষকের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।