কক্সবাজার-বান্দরবানের দুর্গাপূজায় ৩৫৭ মণ্ডপের নিরাপত্তায় প্রস্তুত এসআরবি-১৫

শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার ৩৫৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫ (এসআরবি-১৫)। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি, বিশৃঙ্খলা ও নাশকতা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে ব্যাটালিয়নটি।
পূজামণ্ডপগুলোতে নিয়মিত টহল, মোটরসাইকেল পেট্রোল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্সের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এসআরবি-১৫-এর পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বছর কক্সবাজার জেলায় ৩২৪টি এবং বান্দরবান জেলায় ৩৩টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হতে যাচ্ছে। এসব পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি এসআরবি-১৫ মোবাইল ও স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
পূজামণ্ডপ ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসআরবি-১৫-এর সদস্যরা নিয়মিত টহল ও মোটরসাইকেল পেট্রোল পরিচালনা করবেন। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হবে বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্স। পূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও নাশকতা প্রতিরোধে ব্যাটালিয়নের বিশেষ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পূজাকেন্দ্রিক গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে অনলাইন মনিটরিং সেল সক্রিয় থাকবে। পূজামণ্ডপে নারী দর্শনার্থীদের ইভটিজিং ও হয়রানি প্রতিরোধেও জোরদার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনকারী অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে উৎসবের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এসআরবি-১৫-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোনো ধরনের নাশকতার তথ্য বা আশঙ্কা পাওয়া যায়নি। তবে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও সার্বিক প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। ব্যাটালিয়ন সদরে স্থাপিত নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোথাও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড বা অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত এসআরবি-১৫-কে তথ্য দেওয়ার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বী সকল নাগরিককে শুভেচ্ছা জানিয়ে এসআরবি-১৫-এর পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি এখন সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।
অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের আরাধনাই শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল তাৎপর্য। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।



















