দাফন সম্পন্ন

নিখোঁজের দিন দ্বীপের সঙ্গে বাসার নিচে তাহসিফ, সিসি ফুটেজে যা দেখা গেল

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি নিখোঁজ হওয়ার দিন সন্ধ্যায় তার বাসা থেকে বের হওয়ার সময় সঙ্গে ছিলেন বন্ধু দ্বীপ। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে তাদের দুজনকে একসঙ্গে দেখা গেছে।

ফুটেজ অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটের কিছু আগে তাহসিফের বাসার নিচতলায় আসেন দ্বীপ। সেখানে প্রথমে মোটরসাইকেলে নিজের হেলমেট রাখেন তিনি। এরপর পোশাক দিয়ে চোখ-মুখ মুছতে দেখা যায় তাকে।

ওই ফুটেজে আরও দেখা যায়, এর কিছুক্ষণ পর নিচতলায় আসেন তাহসিফ। তার পরনে ছিল সি-গ্রিন রঙের পাঞ্জাবি ও সাদা পায়জামা। বাঁ হাতে ছিল একটি স্মার্টফোন, পায়ে কালো জুতা। অন্যদিকে দ্বীপের পরনে ছিল হালকা বাদামি শার্ট ও কালো প্যান্ট। এ সময় দুজনকে কথা বলতেও দেখা যায়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তাহসিফের বাবা কেএম এনায়েতুল করিম হেলাল কালবেলাকে জানান, জুনিয়র বন্ধু দ্বীপের ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তার ছেলে। যাওয়ার আগে মাকে বলেছিলেন, একটু কথা বলে ফিরে আসবেন। কিন্তু এরপর তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে শেষবারের মতো একটি বার্তা পাঠান তাহসিফ। সেখানে লেখা ছিল, ‘আম্মু, আমি আসছি।’

পরদিন সন্ধ্যার আগে পরিবার জানতে পারে, রাজধানীর উত্তরার রাজাবাড়ী ঘাটে নদীতে তাহসিফের মরদেহ পাওয়া গেছে।

তাহসিফের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দ্বীপের নাম সামনে আসার পর তার ফেসবুক আইডির সূত্র ধরে যোগাযোগ করে দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকার এক প্রতিবেদকের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন দ্বীপ।

তিনি জানান, তার ও তাহসিফের মোটরসাইকেলের মডেল একই। তাহসিফের মোটরসাইকেলটি অকেজো হয়ে পড়ায় সেটি চালু করতে সাহায্য করেন তিনি। এরপর দুজন মিলে উত্তরার একটি ওয়ার্কশপে যান। সেখানে তাহসিফের মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তনসহ আরও কিছু কাজ করানো হয়।

দ্বীপের ভাষ্য, কাজ শেষে তারা আবার অ্যাপার্টমেন্টে ফেরেন। পরে একটি রেস্তোরাঁয় গিয়ে একসঙ্গে রাতের খাবার খান। এরপর তিনি নিজের বাসার দিকে চলে যান, আর তাহসিফ অন্যদিকে চলে যান। তবে তাহসিফ কোথায় বা কী কাজে গিয়েছিলেন, তা তিনি জানেন না বলে জানান।

তাহসিফের সঙ্গে কতক্ষণ ছিলেন, জানতে চাইলে দ্বীপ বলেন, মোটরসাইকেলের কাজ করতে প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লেগেছিল। তবে সব মিলিয়ে তারা প্রায় তিন ঘণ্টা একসঙ্গে ছিলেন বলে জানান তিনি।

দ্বীপ বলেন, তাহসিফের সঙ্গে তার দেখা হওয়ার সঠিক সময় মনে নেই। তবে তার ধারণা, রাত ৯টার দিকে তাদের দেখা হয়েছিল। আর তিনি বাসার উদ্দেশে রওনা হন রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে।

তাহসিফের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে দ্বীপ বলেন, বয়সে বড় হওয়ায় তাকে বড় ভাইয়ের মতো সম্মান করতেন তিনি। তাদের পারিবারিক সম্পর্কও ছিল ঘনিষ্ঠ। এমনকি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তাহসিফের বাসায় দাওয়াত খেতে যাওয়ার ঘটনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

তাহসিফের জানাজা সম্পন্ন, উত্তরায় দাফন

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির জানাজা রাজধানীর উত্তরায় সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার জানাজা হয়। পরে তাকে দাফনের জন্য উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে নেওয়া হয়। তাহসিফ সৌরির বাবা একেএম এনায়েতুল করিম হেলাল দাফনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদ থেকে তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে উত্তরার বাসায় নিয়ে যান।

পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, তাহসিফ সাউরির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তার মরদেহের পেট ফোলা ছিল। এছাড়া নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: কালবেলা