সাজেকে চলমান সড়ক অবরোধে খাদ্য-ওষুধের সংকটে বাসিন্দারা

পাঁচ দফা দাবিতে টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে। এতে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল, পণ্য সরবরাহ ও জরুরি ওষুধের সরবরাহ। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।

অন্যদিকে, একসময় পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে থাকা সাজেক পর্যটন কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পর্যটক না থাকায় আয় বন্ধ হয়েছে রিসোর্ট, কটেজ, রেস্তোরাঁ ও দোকানপাটের মালিকদের। বিপাকে পড়েছেন পরিবহন শ্রমিকরাও। অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

অবরোধের প্রভাব শুধু পর্যটন খাতে সীমাবদ্ধ নেই। সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সাজেকের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। জরুরি ওষুধের সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাসামগ্রী সংগ্রহের সুযোগ সীমিত। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকলে অসুস্থ ব্যক্তি, শিশু ও বয়স্কদের চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য যানবাহন সমিতির নেতা আয়ুস কান্তি চাকমা জানান, সাজেক-দীঘিনালা-খাগড়াছড়ি সড়কে চলাচলকারী প্রায় সব যানবাহনই অচল হয়ে পড়েছে। এতে শত শত পরিবহন মালিক, চালক ও শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। রোজগার না থাকায় তাদের পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়েছে। মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি শিথিল বা স্থগিত করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

সাজেকের বাসিন্দারা বলছেন, দুর্গম এই এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী সংগ্রহে সমস্যা হয়। অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে চলা সড়ক অবরোধের কারণে গতকালও সারাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে সাজেক ভ্যালি। সকাল থেকে অবরোধকারীরা সড়কের কয়েকটি স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন ধরিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

উল্লেখ্য, সংকট নিরসনে গত সোমবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে উজোবাজারে খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চার দফা দাবি প্রশাসন মেনে নেয়। আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি, সাজেক থেকে জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার সময়সীমা নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়। ফলে অচলাবস্থা কাটেনি। প্রশাসন বলছে, সংকট নিরসনে আলোচনা চলমান রয়েছে।