কালবৈশাখী ঝড়ে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে বোরো ধান বিনষ্ট, কৃষকের কপালে দুশ্চিন্তা

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় গত কয়েকদিন আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে বোরো ধানের ক্ষেত। ঝড়ের তাণ্ডবে শত শত কৃষকের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। মাঠের পর মাঠ ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, কোথাও আবার জমে থাকা পানিতে ডুবে গেছে পাকা ফসল। এতে করে চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশায় থাকা কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় মধ্যে হঠাৎ করে শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে হাজীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ধান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ের সাথে থাকা প্রবল বাতাস ও বৃষ্টির কারণে পাকা ধান গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেক ক্ষেতেই পানির নিচে তলিয়ে যায়। বিশেষ করে যেসব জমিতে ধান কাটার উপযোগী হয়েছিল, সেগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে।
উপজেলার বড়কুল পূর্ব ও পশ্চিম, গন্ধ্যর্বপুর উত্তর ও দক্ষিণ, বাকিলা, হাটিলা পূর্ব ও পশ্চিম ইউনিয়নের কৃষকরা জানান, তারা দিনরাত পরিশ্রম করে জমিতে ধান ফলিয়েছিলেন। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগ মুহূর্তে এমন দুর্যোগ তাদের সব আশা নষ্ট করে দিয়েছে। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন, এখন সেই ঋণ পরিশোধ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
৯নং গন্তব্যরপুর উত্তর ইউনিয়নের আহম্মদপুর গ্রামের আব্দুল করিম বলেন, এবার ধান খুব ভালো হয়েছিল। আর কয়েকদিন পরই কাটতাম। কিন্তু এক ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেল। এখন কীভাবে সংসার চালাবো বুঝতে পারছি না। একই ধরনের হতাশার কথা জানান আরও অনেক কৃষক।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, উপজেলার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ শুরু করেছেন। সঠিক তথ্য সংগ্রহের পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, যেসব জমিতে ধান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেসব কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে কৃষকদের দাবি, দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়ন করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হলে তারা কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কৃষি খাতে এমন ক্ষয়ক্ষতি নতুন নয়। তবে প্রতি বছরই এই ধরনের ঝড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জোরালো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও পূর্বাভাস ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে আগাম সতর্কতা বাড়ানো গেলে অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব।
সব মিলিয়ে, কালবৈশাখী ঝড়ে হাজীগঞ্জের কৃষকদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা শুধু অর্থনৈতিক নয়, মানসিকভাবেও বড় ধাক্কা। এখন সরকারি সহায়তা ও দ্রুত পুনর্বাসনই পারে এই বিপর্যস্ত কৃষকদের কিছুটা স্বস্তি দিতে।
























