কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধন

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের গাঙ্গাটিয়া সৈয়দপুর এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকাল ৩টায় আব্দুল আজিজ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ উন্নয়ন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের যৌথ বাস্তবায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পটি সরকারের জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইজিপিপি (EGPP) কর্মসূচি-এর আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম এবং গীতা পাঠ করেন শ্রীমতী লক্ষী রানী চৌধুরী। এতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রতিফলিত হয়।
স্বাগত বক্তব্যে জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা বলেন, খাল খনন কাজ সম্পন্ন হলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সহজতর হবে এবং দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতায় ভোগা কৃষকদের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব পাবে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, গাঙ্গাটিয়া সৈয়দপুর এলাকার এই খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি সরাসরি উপকৃত হবে। জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এটি একটি সময়োপযোগী ও কার্যকর উদ্যোগ। বক্তব্য শেষে তিনি খাল খনন কাজের উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত, হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলামসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা। এছাড়াও স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক মহলের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহসী মাসনাদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ পানান বিল এলাকায় গিয়ে টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে প্লাবিত বোরোধানের ক্ষেত সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের দুর্ভোগের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে পানান বিল এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই খাল খনন প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে এবং কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
ৃ
সার্বিকভাবে, এই উদ্যোগ শুধু পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নেই ভূমিকা রাখবে না, বরং স্থানীয় দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষের জন্য অস্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে তাদের জীবিকা উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

















