কিশোরগঞ্জে শফিকুল হত্যা: তদন্তে পক্ষপাতের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পরিবারের

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে শফিকুল ইসলাম হত্যা মামলার তদন্তে পক্ষপাতিত্ব, গাফিলতি এবং প্রভাবশালীদের আড়াল করার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, মামলার মূল আসামিদের নাম-পরিচয় বারবার জানানো হলেও ওসি তাদের গ্রেপ্তার করছেন না। বরং একতরফাভাবে তদন্ত পরিচালনা করছেন।
এ অবস্থায় হত্যা মামলাটি কটিয়াদী থানা থেকে প্রত্যাহার করে পিবিআই, সিআইডি অথবা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একজন দক্ষ ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এসব অভিযোগ তুলে রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে কিশোরগঞ্জ শহরের আখড়াবাজার এলাকায় কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরাম কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন নিহত শফিকুল ইসলামের স্বজনরা। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহতের স্বজন নয়ন মিয়া। এসময় নিহতের মা আনোয়ারা বেগম, বোন কামরুন্নাহার, সাবিকুন্নাহার এবং হত্যা মামলার বাদী বেগম উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, কটিয়াদী উপজেলার উত্তর ঝিড়ারপাড় গ্রামের বাসিন্দা ও দীর্ঘদিনের প্রবাসী মো. শফিকুল ইসলাম দেশে ফিরে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তার মোবাইল ফোনে একটি কল আসে।
ফোনে তাকে জরুরি ভিত্তিতে রসুলপুর ঈদগাহ মাঠের পাশে যেতে বলা হয়। সেখানে যাওয়ার পর সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের বোন বেগম বাদী হয়ে কটিয়াদী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করে।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, তদন্তে তারা জানতে পেরেছেন বাবুল মিয়ার পাশাপাশি বাদশা মিয়া, আমির হোসেন, হারুন মিয়া, মজিবুর রহমান, শুভ মিয়া ও জয় আহম্মেদ বকুলসহ আরও কয়েকজন হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। পারিবারিক জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তারা দীর্ঘদিন ধরে শফিকুল ইসলামকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল বলেও অভিযোগ করা হয়।
এসব ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা একাধিকবার ওসিকে জানানো হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে নিহতের মা আনোয়ারা বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করেন। তারা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন এবং মামলা চালিয়ে গেলে নিহতের পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। এছাড়া ঘটনার দিন শফিকুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে কে ডেকে নিয়েছিল, সেটি শনাক্ত করার অনুরোধ জানানো হলেও পুলিশ তা অনুসন্ধান করেনি বলেও দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধনের উদ্যোগ নিলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। পাশাপাশি ওসির সঙ্গে অভিযুক্তদের পূর্বপরিচয় ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি তাদের পক্ষ নিয়ে তদন্ত পরিচালনা করছেন বলেও অভিযোগ করেন স্বজনরা। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপারের কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তারা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কটিয়াদী থানার ওসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি জেনে উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জ নয়, ঢাকা প্রেসক্লাবে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে বলেন।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।






























