কুমিল্লায় নিয়মরক্ষায় সময় অতিবাহিত হওয়ায় সীমান্তে মুমূর্ষু তরুণের মৃত্যু

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী নারায়নপুর ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সিফাই জেলার করমচুরা থানা এলাকার সীমান্তবর্তী রহিমপুর আন্তর্জাতিক সীমানায় সকালে এক মুমূর্ষু তরুণকে পড়ে থাকতে দেখার পর সন্ধ্যায় ওই বাংলাদেশী তরুণের মরদেহ উদ্ধার করেছে বিজিবি।

বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তার মরদেহ উদ্ধার করে ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে বিজিবির ৬০ ব্যাটালিয়নের শশীদল বিওপির সদস্যরা।

স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে বিএসএফ ধরে নিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত ও বিবস্ত্র করে মুমূর্ষু অবস্থায় আন্তর্জাতিক সীমানায় ফেলে রেখে যায়।

জানা গেছে, নিহত তরুণ তুষার খাঁ (৩৫) নওগাঁ জেলার রানীনগর থানার বালুভরা এলাকার মোসলেম খাঁর ছেলে। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল এলাকায় তার ফুপুর বাড়ি। ওই এলাকার মালদার বাড়ির বাসিন্দা ফুপু আসমা বেগম ও ফুপা আবু তাহের।

শশীদল বিওপির বিজিবি কমান্ডার নায়েব সুবেদার আব্দুল খালেক জানান, সকাল ছয়টায় ২০৫৮ মেইন পিলার থ্রি এস এবং ফোর এসের মাঝামাঝি বাংলাদেশের নারায়নপুর দক্ষিণপাড়া হতে ভারতের ১০ ফুট অভ্যন্তরে রহিমপুর এলাকায় মুমূর্ষু অবস্থায় ওই তরুণকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ওই ব্যক্তি ভারতের অভ্যন্তরে থাকায় তার পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে বাংলাদেশে আনতে পারিনি।

তিনি আরও জানান, বিএসএফকে বিজিবির পক্ষ থেকে একাধিকবার জানা‌নো হলেও বিএসএফ কোনপ্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ভারতের অভ্যন্তরে তার মৃত্যু হওয়ায় মরদেহটি বিএসএফ তাদের দেশে নিয়ে পোস্টমর্টেম করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করার কথা। কিন্তু বিএসএফ এ বিষয়েও কোন পদক্ষেপ না নিয়ে আমাদের সাথে কোনো বৈঠক না করেই ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

পরে সন্ধ্যায় নিহত তরুণের মরদেহ বাংলাদেশ সীমান্তে এনে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে বিজিবির শশীদল বিওপির সদস্যরা।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপ্পেলা রাজু নাহা বলেন, বিজিবি পুলিশের কাছে নিহতের মরদেহ হস্তান্তরের পর তা ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হ‌য়ে‌ছে। ময়নাতদন্ত শেষে আইনি প্রক্রিয়ায় নিহতের মরদেহ তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।