লোকালয়ে দেখা মিলছে শেয়ালের: রাতের নীরবতা ভাঙতে হুক্কাহুয়া ডাক

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক,বসতবাড়ীর আশপাশে হর-হামেশাই দেখা মিলছে শেয়ালের। আতঙ্কে রয়েছেন গ্রামবাসী।

একসময় গ্রামের ঝোপঝাড়, বাঁশঝাড় কিংবা ফসলের মাঠের আশপাশে শেয়ালের দেখা মিলত। কিন্তু এখন সেই শেয়ালই যেন ক্রমেই ঢুকে পড়ছে মানুষের বসতবাড়ি ও চলাচলের সড়কে।

দিনের আলোতেও গ্রামীণ সড়কে শেয়ালের ঘোরাফেরা এবং রাতের বেলায় বাড়ির আশপাশে তাদের আনাগোনা কিছুটা আতঙ্ক ছড়ালেও বহুবছর পর শেয়াল দেখতে পেয়ে জনমনে কৌতুহল দেখা দিচ্ছে।

বোতলারপাড় গ্রামের বাসিন্দা সেকেন্দার আলী (৬৫) জানান, আমার বয়স যখন বিশ বছর, তখন এই গ্রামে কোনটা কুকুর কোনটা শেয়াল এটা পার্থক্য করাটা মুশকিল হতো।

একই গ্রামের বাসিন্দা আকবর আলী বলেন, শেয়ালের জ্বালায় একসময় বাড়ীতে হাস, মুরগী, কবুতর,এমনকি ছোট বাচ্চাদের সবসময় চোখে চোখে রাখতে হতো।

পরিবেশকর্মী আরিফ ইসলাম বলেন, বন্যপ্রাণীদের আবাসস্থল ও খাদ্যের সংকট হওয়ায়, শেয়ালের আনাগোনা গ্রামীণ এলাকায় দেখা মিলছে,তিনি ধারণা করেন, দেশের বনভূমি যে পরিমাণ থাকার কথা সে তুলনায় দিন দিন কমছে। ফলে শেয়ালের মতো বন্যপ্রাণীদের লোকালয়ে দেখা মিলছে।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, শেয়ালের স্বাভাবিক আবাসস্থল ও খাদ্যের উৎস কমে গেলে তারা মানুষের বসতির কাছাকাছি চলে আসতে পারে। গ্রামাঞ্চলে ঝোপঝাড়, বাঁশঝাড়, ছোট বনভূমি ও খোলা জায়গা কমে যাওয়া, কৃষিজমির ধরন পরিবর্তন এবং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা—এসব কারণে শেয়ালের চলাচলের ধরনও বদলাতে পারে।

পরিবেশবাদী সংগঠন গুলোর দাবি, আগে শেয়ালকে শুধু রাতেই দেখা গেলেও এখন দিনের বেলাতেও সড়কে দেখা যাচ্ছে। ফলে বিষয়টি শুধু বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি নয়, স্থানীয় পরিবেশের পরিবর্তনেরও একটি ইঙ্গিত কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।প্রকৃতির ভারসাম্যে শেয়ালেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই লোকালয়ে দেখা গেলেই শেয়াল নিধন নয়—বরং কেন তারা মানুষের বসতির দিকে আসছে, সেই কারণ খুঁজে বের করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। এ ঘটনা হয়তো শুধু শেয়ালের আনাগোনার গল্প নয়; বরং বদলে যাওয়া গ্রামীণ পরিবেশেরও একটি সতর্ক সংকেত।

এবিষয়ে, রাজারহাট উপজেলার বন বিভাগের কর্মকর্তা সাদিকুল ইসলাম বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০২৬ অনুযায়ী কোনো বন্যপ্রাণী লোকালয়ে ঢুকলে সেটিকে নিজে ধরে ফেলা, মারধর বা হত্যা করা উচিত নয়; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো নিরাপদ ও আইনসম্মত পদ্ধতি।

তিনি আরও বলেন, লোকালয়ে শেয়ালের আনাগোনার অন্যতম কারণ তাদের খাদ্যের সংকট এবং ঝোপঝাড়, বন-জঙ্গলের পরিমাণ কমিয়ে যাওয়া। শেয়ালের আনাগোনা কমাতে এবং সাধারণ মানুষের আতঙ্ক কমাতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।