খাগড়াছড়ির পানছড়িতে একজনকে গুলি করে হত্যা, লাশ উদ্ধার

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়ি উপজেলাতে মো: ইমন হেসেন নামে এক যুবককে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার(৭ই মে) ভোরে পানছড়ি উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার খবর পেয়ে পানছড়ি সেনাবাহিনী সাব-জোনে সদস্যরা ঘটনার পরপরই এলাকা ঘিরে রেখেছিল। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষ দর্শী সুত্রে জানা যায়, বৃহষ্পতিবার আনুমানিক ভোর ৬টার দিকে ইমন হোসেন নামের ঐ যুবক উপজেলার ইসলামপুর এলাকার স-মিলের সামনে দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় কয়েকজন অস্ত্রধারী মাহিন্দ্র গাড়ি করে এসে তাকে লক্ষ্য করে সামনে থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

অভিযোগ আছে, মো: ইমন হোসেন পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক সংগঠনের সোর্স কালেক্টর হিসেবে কাজ করতেন। হত্যাকান্ডের এ ঘটনায় ইউপিডিএফ-মূল’কে দায়ী করা হচ্ছে।

তবে ইউপিডিএফ’র মূল প্রেস বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা জানান, এটি তাদের অভ্যন্তরীন কোন্দলেন কারনে এ ঘটনা ঘটতে পারে। আমাদের সংগঠন অস্ত্র দিয়ে নয়, বরং গনতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলনে বিশ^াসী।

পানছড়ি বাজারের বাসিন্দা মো: করিম বলেন, পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক সংগঠনের কালেক্টর ইমন হোসেনের জোর করে অবৈধ চাদা আদায় করা ও অন্যায় প্রশ্রয়ে এলাকার প্রভাব খাটানো নিত্য-নৈমিতিক বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। পাহাড়িদের চাইতে বাংগালীর বাসিন্দারা ক্ষোভে অস্থিরতায় বেশী কষ্ট পেতো ও অনাকাংখিত বেদনাদায়ক পড়ায় এই কাল হতে হয়েছে।

পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ ঘটনা’র সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পানছড়িতে একজনকে গুলি করে কে বা কারা হত্যা করেছে তা এখনো জানা যায়নি। নিহত যুবক কোন সংগঠনের সাথে জড়িত কিনা তা নিশ্চিত করা বলা যাচ্ছে না। তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। থানায় অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হবে।

উল্লেখ্য, ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)-এর দুটি উপদলের মধ্যে, বিশেষত ইউপিডিএফ(প্রসিত খীসা উপদল) এবং ইউপিডিএফ-ডেমোক্রেটিক(গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ)-এর মধ্যে, পৃাণঘাতী সংঘর্ষ হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সাম্প্রতিক ঘটনায় (২০২৬-২০২৪):২৭শে মার্চ, ২০২৬: উল্টাছড়ি ইউনিয়নের সুতাকর্মপাড়া এলাকায় পানছড়িতে ইউপিডিএফ-ডেমোক্রেটিকের সমন্বয়কারী নীতিদত্ত চাকমা(৪০) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ইউপিডিএফ-ডেমোক্রেটিক এই হত্যাকান্ডের জন্য প্রসিত খীসার নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে দায়ী করেছিল, যা অস্বীকার করা হয়েছে। ৭ই মার্চ, ২০২৬: পানছড়ি সদরের বারাকোনা এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তিদের গুলিতে ইউপিডিএফ(প্রসিত গোষ্ঠী)-এর সদস্য ২৮বছর বয়সী আপন ত্রিপুরা(ওরফে সংগ্রাম) নিহত হন। ২৪জানুয়ারি, ২০২৪: মহলছড়ি উপজেলায় ইউপিডিএফ-এর দুই সদস্য রবি কুমার চাকমা ও শান্তা চাকমাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ইউপিডিএফ এই ঘটনার জন্য গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ-কে দায়ী করলেও তারা এতে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। ১১ডিসেম্বর, ২০২৩: পানছড়ি উপজেলার প্রত্যন্ত অনিল পাড়া এলাকায় সহিংস হামলায় ইউপিডিএফের(বিপুল চাকমা, লিটন চাকমা, সুনীল ত্রিপুরা এবং রুহিনসা ত্রিপুরা) চার নেতা/কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
সংঘাতের গতি প্রকৃতি: এই হত্যাকান্ডগুলো চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চলমান সহিংসতারই একটি অংশ। বিভিন্ন গোষ্ঠী প্রায়শই একে অপরের বিরুদ্ধে হত্যা ও অপহরণের অভিযোগ তোলে। স্থানীয় পুলিশ প্রায়শই এই ঘটনাগুলোকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গোষ্ঠীগত বিবাদের ফল হিসেবে প্রতিবেদন করে থাকে।