খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রোগীর খাবার মুখে দিয়ে ফেলে দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

খুলনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে রোগীদের জন্য রান্না করা নিম্নমানের খাবার দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এসময় তিনি হাসপাতালের রান্নাঘরে প্রস্তুত করা কুমড়োর সবজি মুখে দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দেন এবং সংশ্লিষ্টদের তিরস্কার করেন।

বুধবার (২০ মে) সকালে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হাসপাতালটি পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত।

রান্নাঘর পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী নিম্নমানের তরকারি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এ ধরনের তরকারি আপনাদের বাসায় রান্না হলে কি আপনারা খেতেন?” এসময় তিনি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রোগীদের জন্য উন্নতমানের খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশ দেন।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে হাসপাতালের রেবিস (জলাতঙ্ক) ভ্যাকসিন সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি রেবিস ভ্যাকসিন কর্নারে গিয়ে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে রোগীরা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে ভ্যাকসিন না থাকায় তাদের বাইরে থেকে টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে।

এ অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম গাজীকে তিরস্কার করেন এবং জানতে চান কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জবাবে তত্ত্বাবধায়ক সরবরাহ সংকটের কথা উল্লেখ করলেও, ঘটনাস্থল থেকেই ঢাকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করে মন্ত্রী জানতে পারেন, ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগই যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি।

এ ঘটনায় মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার নির্দেশ দেন এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, রোগীদের সঙ্গে কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। চিকিৎসা সেবায় গাফিলতি করলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুরো পরিদর্শনজুড়ে হাসপাতালের নানা অব্যবস্থাপনা, নিম্নমানের সেবা ও রোগীদের দুর্ভোগ দেখে মন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কঠোর নজরদারির ইঙ্গিত দেন।

হাসপাতালের এ চিত্র স্বাস্থ্যখাতের ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। স্থানীয়দের আশা, মন্ত্রীর এ আকস্মিক পরিদর্শনের পর হাসপাতালের সেবার মানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।