চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে মাধুর্যধারা শিল্পকুঞ্জের আয়োজনে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সাংস্কৃতিক চর্চা ও নতুন প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশে মাধুর্যধারা শিল্পকুঞ্জের আয়োজনে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল ১০টায় হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারস্থ আনন্দ প্যালেসে আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। দিনব্যাপী আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল গান, নৃত্য, দলীয় সংগীত, দলীয় নৃত্য, একক গান ও একক নৃত্যের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা। ক্ষুদে শিল্পীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় উপস্থিত দর্শকরা মুগ্ধ হন। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠান প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে। প্রতিটি পরিবেশনা শেষে উপস্থিত অতিথি ও অভিভাবকদের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠানে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী এ সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক চর্চার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়। আয়োজকরা জানান, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে শিশুদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় ছিলেন মাধুর্যধারা শিল্পকুঞ্জের আবৃত্তি প্রশিক্ষক মুক্তা সাহা। তার সাবলীল ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনা অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার পাশাপাশি প্রতিটি পরিবেশনার মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখতে সক্ষম হন তিনি।

অনুষ্ঠানে মাধুর্যধারা শিল্পকুঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও হাজীগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর সহকারী শিক্ষিকা সাথী মজুমদার উপস্থিত থেকে সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন। তিনি বক্তব্যে বলেন, “শিশুদের মানসিক বিকাশ ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে সাংস্কৃতিক শিক্ষার বিকল্প নেই। লেখাপড়ার পাশাপাশি গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মতো সৃজনশীল কর্মকাণ্ড শিশুদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।” তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাজীগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, “বর্তমান প্রজন্মকে মোবাইল আসক্তি ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। শিক্ষা ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে একজন শিক্ষার্থী আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।”

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গণেশ আইচ, বাংলাদেশ বেতার এর নিয়মিত শিল্পী নন্দিতা দাস এবং হাজীগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমীর সংগীত প্রশিক্ষক মিলি সাহা। অতিথিরা শিক্ষার্থীদের পরিবেশনার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহ প্রদান করেন।

দিনব্যাপী প্রাণবন্ত এ আয়োজন শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে আনন্দ-উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের আয়োজন শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা বিকাশের পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।