দরজা বন্ধ করে নার্সদের মারামারি, রক্তাক্ত সিনিয়র নার্স

হাসপাতালে রোগীর সেবা দেওয়ার পরিবর্তে নিজেরাই বিবাদে জড়ালেন তিন নার্স। নাইট ডিউটির রোস্টার নিয়ে শুরু হওয়া কথা-কাটাকাটি একপর্যায়ে গড়ায় মারামারিতে। ঘটনাটি ঘটে নওগাঁর বদলগাছী হাসপাতালে।

জানা গেছে, নাইট ডিউটির রোস্টারকে কেন্দ্র করে প্রথমে সিনিয়র নার্স শাহানাজ পারভীনের সঙ্গে শিল্পী আক্তারের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শিল্পী আক্তার লিপি আক্তার কে মুঠোফোনে কথা-কাটাকাটি বিষয়ে জানলে লিপি আক্তার হাসপাতালে এসে শিল্পী আক্তারের পক্ষ নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।

পরে তাঁদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে বাড়তে ভায়া রুমের দরজা বন্ধ করে মারামারির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মারামারি ভায়া রুমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; তা ছড়িয়ে পড়ে টিকাদান কক্ষ পর্যন্ত।

এ সময় সিনিয়র নার্স শাহানাজ পারভীনকে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে অপর দুই নার্সের বিরুদ্ধে। ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন আহত নার্স শাহানাজ পারভীন।

এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় এলাকাজুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

ঘটনাটি নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। গত বুধবার ২৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশে ভাষা রুমে এ ঘটনা ঘটে।।দন্ডে জরানো নার্সরা হলেন, শাহানাজ পারভিন,অপরদিকে দুই নার্স হলেন শিল্পী আক্তার ও তাঁর বোন লিপি আক্তার। তাঁরা তিনজনই ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মাসের শুরুতে নাইট ডিউটির রোস্টার নিয়ে শাহানাজ পারভিন ও শিল্পী আক্তারের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ঘটনার দিন শিল্পীর বোন লিপি বাসা থেকে হাসপাতালে আসেন।

পরে জরুরি বিভাগের পাশে দায়িত্ব পালনরত শাহানাজ পারভীন ও দুই বোন শিল্পী আক্তার ও লিপি আক্তার মিলে মারামারিতে জরিয়ে পরেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এক পর্যায়ে শাহানাজ রক্তাক্ত হলে, শাহানাজ চিৎকার শুনে অন্যরা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সিনিয়র নার্স শাহানাজ পারভিন বলেন, নাইট ডিউটি আগে করা নিয়ে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর লিপি বাসা থেকে এসে বোনের পক্ষ নিয়ে দুজন মিলে আমাকে মারধর করে। একসঙ্গে কাজ করলে কথা-কাটাকাটি হতেই পারে। তাই বলে আমাকে এভাবে মারধর করবে, তা স্বপ্নেও ভাবিনি। আমার চোখ-মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

তবে এই সব অভিযোগ অস্বীকার করে শিল্পী ও লিপি আক্তার দাবি করেন, শাহানাজ প্রায়ই তাঁদের কটাক্ষ করে কথা বলেন এবং গালাগাল করেন। ঘটনার দিন রোস্টার ডিউটি নিয়ে শিল্পীকে কটাক্ষ করায় তাঁরা এর কারণ জানতে গিয়েছিলেন। এ সময় শাহানাজই তাঁদের ওপর আক্রমণ করেন। তাঁদের আরও অভিযোগ, শিল্পীর হাত থেকে এক ভরি ওজনের দুটি সোনার বালা এবং লিপির আট আনা ওজনের একটি সোনার চেন ছিনিয়ে নিয়েছেন শাহানাজ।

ঘটনার সময় ডিউটি তে ছিলেন নার্স শিরিন আক্তার। তিনি বলেন, মারামারির সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। পরে বিষয়টি শুনেছেন। এমন ঘটনায় হাসপাতালের সবাই বিব্রত। তাঁরা এ ঘটনার নিন্দা জানান।।

বদলগাছী থানার পরিদর্শক (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

কমিটির প্রধান আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার আসাদুজ্জামান নাহিদ বলেন, এই ঘটনায় আমাকে তদন্ত কমিটির প্রধান করেছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট তৈরী করে দোষীর বিরুদ্ধে সুপারিশ করা হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিস ফারহানা বলেন, বিষয়টি তিনি পরে জেনেছেন। এ ঘটনায় হাসপাতালের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। আবাসিক মেডিকাল অফিসার ডা: আসাদুজ্জামান নাহিদকে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

হাসপাতালের শৃঙ্খলা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। দায়িত্ব পালনকালে এমন ঘটনার অভিযোগ ওঠার পরও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন প্রশ্ন, হাসপাতালের ভেতরে সহকর্মীকে মারধরের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হবে কি, আর দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কে?