নওগাঁর বদলগাছী

খাটুনির মজুরি ৫০ হাজার! চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে এক অসহায় ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন বৈকুন্ঠপুর গ্রামের বাসিন্দারা। মানববন্ধন থেকে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান ও মেম্বারের অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে চেয়ারম্যানের বাড়ি ঘেরাও করার ঘোষণাও দিয়েছেন বক্তারা।

আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫ টায় উপজেলার আধাইপুর ইউপির বৈকুন্ঠপুর বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, পারিবারিক জমি-সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার জন্য স্থানীয়ভাবে সালিস বসানো হয়। দুই দিন ধরে চলা ওই সালিসে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য শালিসের এক দিন আগে ভুক্তভোগীর বসতভিটায় স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহতাব আলি পরামানিক গিয়ে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার নামে ২০ হাজার টাকা নেন এবং পরের দিন বিচার নিষ্পত্তিতে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরে ভুক্তভোগীর হাতে চেয়ারম্যান ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দেন। বাকি ৩০ হাজার টাকা চেয়ারম্যান নিয়ে নিয়েছেন এবং পূর্বে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অজুহাতে মেম্বার ২০ হাজার টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এর আগে এ ঘটনায় অভিযোগ ওঠে, সালিসে নির্ধারিত ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ১ লাখ টাকা ভুক্তভোগীর হাতে পৌঁছালেও বাকি ৫০ হাজার টাকা চেয়ারম্যান মেম্বারের খাটুনির মজুরি হিসেবে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হলে আজ বৈকুন্ঠপুর বাজারে মানববন্ধনের আয়োজন করেন স্থানীয়রা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন অসহায় ব্যক্তির ন্যায্য পাওনা থেকে কোনো জনপ্রতিনিধি অর্থ গ্রহণ করতে পারেন না। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে আধাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের দ্রুত অপসারণের দাবি তোলা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, চেয়ারম্যানের অপসারণসহ তাদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে পরবর্তী সময়ে চেয়ারম্যানের বাড়ি ঘেরাও করে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। মানববন্ধনে ভুক্তভোগী ছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দারা বক্তব্য দেন।

তবে চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।