নেত্রকোনার মদনে বোরো ফসলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বোরো ফসলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ সময় শতাধিক বাড়ি ঘর ও গাছ পালা লন্ড ভন্ড হয়ে যায়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আকস্মিকভাবে শুরু হওয়া ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এমন ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পর থেকেই উপজেরার পৌর সদরসহ ৮ ইউনিয়ন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গত ২০ ঘন্টায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে প্রবল বেগে ঝড় শুরু হয়। এর সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হওয়ায় বোরো ধান, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়। অনেক কৃষকের ক্ষেতের পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এতে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, হঠাৎ এ ধরনের দুর্যোগে তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তারা সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ ও সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও তারা আশ্বাস দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের কদমশ্রী গ্রামের কৃষক নিকচন জানান, আমি চার একর জমি চাষ করেছিলাম। তিন চার দিনের মধ্যে কাটব বলে ভাবছিলাম। এতে প্রায় ৪ শ মন ধান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল শিলা বৃষ্টিতে আমার সব শেষ হয়ে গেছে। এখন ১০০ মন ধান পাওয়ার কোন অবস্থা নেই।
তিয়শ্রী ইউনিয়নের কৃষক সাকের খান জানান,আমি ১ একর বোরো জমি চাষ করে ছিলাম, শিলা বৃষ্টি আমার জমি ফসল প্রায় শেষ হয়ে গেছে।
মাঘান ইউনিয়নের পদেরকোনা গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান জানান, তিন একর জমি ৭০ শতাংশই এই ঝড়ে মাটির সাথে মিশে গেছে।
তিয়শ্রী ইউনিয়নের সাইতপুর গ্রামের কৃষক ইছাক মিয়া জানান, আমি ৮ একর জমি চাষ করি। দুই দিনের মধ্যে কাটার কথা ছিল ৮০ ভাগ ধান শিলায় নষ্ট করেছে। এখন শ্রমিক দিয়ে কাটলে শ্রমিকের খরচেই হবে না। চান গাও ইউনিয়নে চক মড়ল পাড়া অজুফা সোনা মিয়া এতিমখানা ঝড়ে লন্ড ভন্ড করেছে,প্রায় ২ লক্ষ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলার কৃষি অফিসার মাহমুদুল হাসান মিজান জানান, পৌরসভাসহ ৮ ইউনিয়নে প্রায় ৬শ হেক্টর বোরো জমি শিলা বৃষ্টিতে ক্ষতি হয়েছে। সব চেয়ে ক্ষতির পরিমান তিয়শ্রী,মাঘান,গোবিন্দশ্রী ও ফতেপুর ইউনিয়নে। তবে ১০০ হেক্টর জমি একে বারেই কাটা যাবে না।
আমিসহ আমাদের লোকজন সকাল থেকেই মাঠে আছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেদবতী মিস্ত্রী জানান, গতকাল সন্ধ্যায় শিলা বৃষ্টি ও ঝড়ে বেশ কিছু এলাকায় বোরো জমি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষি অফিসার মাঠে কাজ করছেন। আমিও তাদের মাধ্যমে খোঁজ খবর রাখছি। কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে পরে জানানো হবে।
























