পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় স্বামী চাঁদা দিলেও রক্ষা হয়নি মিমের

বরগুনা জেলার রায়ভোগ এলাকারন বাসিন্দা তরুণ বয়সী আজিজুল। মোবাইল ফোনে কথপ-কথনে প্রেমের সম্পর্কে গড়ে ওঠে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউপির কিশোরী মিমের সঙ্গে। এক পর্যায়ে বিয়ের সিন্ধান্ত নিয়ে মিমের বাড়িতে ছুটে আসেন আজিজুল।

২০২৪ সালের ১৩ আগষ্ট মিমকে চিরদিনের জন্য আপন করে পেতে ডালবুগঞ্জ সোনখোলা গ্রামে এসেই এলাকার চাঁদাবাজদের কবলে পড়েন দুরন্ত এই প্রেমিক। মিমের বয়স কম হওয়ার অজুহাতে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় যুবদল সভাপতি দেলোয়ার মৃধার বাড়িতে।

এর আগে আজিজুলের সঙ্গে আসা হোন্ডা চালককে অমানুষিক নির্যাতন করে হাতিয়ে নেওয়া হয় ৫ হাজার ৫ শত টাকা এবং সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন। আজিজুলের সঙ্গে দেলোয়ার মৃধার বাড়িতে আটকে রাখা হয় হোন্ডা চালককেও। এরপরই শুরু হয় সিনেমা স্টাইলে দর কষাকষি।

লাখ টাকা দাবী করা হলেও মিমের পরিবার আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল হওয়ায় মেয়েকে সহ থানা পুলিশে তুলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বেশ কয়েকবার। তবে বিয়ের বয়স না হওয়ায় মিমকে পরিবারের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয় চাঁদাবাজরা।

অপরদিকে আজিজুল ও তার হোন্ডা চালককে আটকে রেখে মুক্তিপন হিসেবে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাঁদাবাজরা। খবর শুনে উপায়ান্ত না পেয়ে জমি বন্ধক রেখে ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে সন্তানকে উদ্ধারে বন্ধু রুবেলকে পাঠান বাবা কুদ্দুস মাতুব্বর।

মুঠো ফোনে কুদ্দুস মাতুব্বর জানান, ওই সময়ে শুধু ভাবছি যে ছেলেটাকে উদ্ধার করতে হবে। তাই টাকার চিন্তা করিনি।
পরে ডালবুগঞ্জ যুবদল নেতা দেলোয়ার মৃধার বাড়িতেই নগদ অর্থ গুনে নিয়ে আজিজুলকে মুক্তি দেয় চাঁদাবাজরা। এসময় আজিজুলের দুই ভাই এবং এক চাচাতো ভাই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এমন তথ্য জানান ভুক্তভোগী কুদ্দুস মাতুব্বর।

তবে এ ঘটনার কিছুদিন পরেই ফের মিমের বাড়িতে এসে তাকে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করে আজিজুল। ঘটনা এখানেই শেষ নয়, বিয়ের বেশ কিছুদিন পর মিম সন্তানসম্ভবা হলে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় শশুর বাড়ির লোকজন। এছাড়া চাঁদাবাজদের সেই আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও চাপিয়ে দেওয়া হয় মিমের পরিবারের কাঁধে।

মিমকে বলা হয়, বাবার বাড়ির চাঁদাবাজদের দেওয়া টাকা দিয়েই চিকিৎসা এবং সন্তান প্রসবের পরবর্তী বিষয়ে পরিচালনা করতে। এরপর দীর্ঘ ৬ মাস সোনখোলা গ্রামে বাবা আনোয়ার হাওলাদারের বাড়িতে থেকে সন্তানের জন্ম দেয় মিম। তবে তার কান্না আজও থামেনি।

এরই মাঝে মেয়ের এমন করুন দশার কথা স্থানীয় কয়েক যুবকের কাছে জানান মিমের মা আমিনা বেগম। সেখানে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। জানান, মেয়ের শ্বশুর বাড়ির পরিবার থেকে চাঁদার টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। ওই সময়ে ভয়ে মুখ খুলতে পারেননি কারো কাছেই। এখন মেয়ের করুন দশায় মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন তিনি

মিমের স্বামী আজিজুল জানান, তাকে আটকে রেখে হোন্ডা চালককে অনেক নির্যাতন করে মোট ৫০ হাজার টাকা নেয় চাঁদাবাজরা। যুবদল নেতা দেলোয়ার মৃধার বাড়িতেই একজন হোন্ডা চালায় দেখলে চিনতে পারব এমন ব্যক্তি টাকা গুনে নিয়েছে। কিন্তু শালিশ যা করার দেলোয়ার মৃধার নেতৃত্বেই হয়েছে।

তবে এবিষয়ে ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি দেলোয়ার মৃধা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ছেলে মেয়ে আমার বাড়িতে নিয়ে এসেছিল এটা সত্য। তবে মেয়ের বয়স কম হওয়ায় তাকে পরিবারের কাছে দিয়ে দেয়া হয়েছিল। আর টাকা কেউ নিয়েছিল কিনা আমি জানিনা। এখন খুজে দেখার চেষ্টা করব।

এ বিষয়ে মহিপুর থানার ওসি মহাব্বাদ খাঁন বলেন, বিষয়টি ফেসবুকের মাধ্যমে দেখেছি। তবে ভুক্তভোগী কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। আসলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেব।