পর্যায়ক্রমে মাধ্যমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের পরিকল্পনা করছে সরকার। পর্যায়ক্রমে মাধ্যমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট সেমিনার কক্ষে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উপলক্ষে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ (স্বাশিপ) আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর দৃষ্টিতে শিক্ষকদের মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে লিখিত প্রবন্ধ উপস্থান করেন স্বাশিপ সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলম সাজু।

সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর সাজিদুল ইসলাম।

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দর্শন ছিল শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি করা। সে লক্ষ্যে বর্তমান শেখ হাসিনা সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, এ মাস থেকেই নতুন প্রতিষ্ঠান এমপিওর কাজ শুরু হবে।

উপমন্ত্রী বলেন, পাশের হার কেন কমছে সেটার কারণ তো শিক্ষক নন। শিক্ষকের যদি আয় রোজগার, গৃহে শান্তি না থাকে তাহলে তিনি সঠিকভাবেও শিক্ষা দিতে পারবেন না। তাদের মানোন্নয়নে যেখানে অনুন্নত বা শহরাঞ্চলের বাইরে, যেখানে নারী শিক্ষার জন্য বিশেষ বিনিয়োগের প্রয়োজন, যেখানে প্রতিষ্ঠানিক উন্নয়নের প্রয়োজন সেখানে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে।

নওফেল বলেন, শেখ হাসিনার সরকার শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন দেখে না তিনি দেখেন মানুষের সুষম অধিকার নিশ্চিত হলো কি না। সেটাই সত্যিকারের উন্নয়ন।

আবারো বড় আকারে এমপিও আবেদন চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন যতটুকু সম্ভব সকলকে আমরা চেষ্টা করবো এমপিওর কাঠামোর মধ্যে আনার। আগের যেসব কিছু ত্রুটি-বিচ্যু্তি ছিলো সেগুলো আমরা সংশোধন করছি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, শিক্ষকরা জাতি গঠনের কারিগর। তাদের উপরই একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে। বিএনপি সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার শিক্ষার উন্নয়নে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

আওয়ামী লীগ এই নেতা বলেন, তিনি শিক্ষকদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ও মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, শিক্ষাবান্ধব শেখ হাসিনা সরকার ১৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩৩০টি কলেজ, ৩২০টি হাইস্কুল, ৪৫০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করে ইতিহাসের মাইলফলক স্থাপন করেছেন।

মাহবুব উল আলম হানিফ শিক্ষকদেরকে অপরাজনীতি থেকে দূরে থাকার আহবান জানান।

অনুষ্ঠানে সাবেক সচিব জনাব নজরুল ইসলাম খান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মশিউর রহমান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর আবদুস সালাম ও মাওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর নুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য নিন্মোক্ত আট দফা প্রস্তাবনা পেশ করা হয়। দাবিগুলো হলো-

এক. শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান সরকারি-বেসরকারি, এমপিও-ননএমপিও বৈষম্য দ্রুততার সাথে নিরসন করে অভিন্ন ধারার শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

দুই. বর্তমান বাস্তবতা ও স্পর্শকাতরতা দূরীকরণার্থে বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য সরকারি অনুরূপ বাড়ী ভাড়া ও উৎসব ভাতা নিশ্চিত করা।

তিন. শ্রেণিকক্ষকে আরও আকর্ষণীয়, মনোগ্রাহী করার জন্য শিক্ষকদের আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ নিশ্চিতকরণ।

চার. শিক্ষকরা জাতি নির্মাণের কারিগর, অন্যান্য পেশার চেয়ে আলাদা। কাজেই তাদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল নির্ধারণ করা।

পাঁচ. বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটিতে রাজনৈতিক বিবেচনার উর্ধ্বে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিক্ষানুরাগী ও স্বচ্ছ মনের ব্যক্তিদের নিয়ে অন্তর্ভূক্তকরণ।

ছয়. শিক্ষার যাবতীয় নীতিনির্ধারণের সকল স্তরে শিক্ষকদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণ।

সাত. চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর বৈশ্বিক দক্ষতা সম্পন্ন মানব সম্পদ তৈরি করা।

আট. বিশ্বসমাজ, পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্পর্কে সম্যক ধারণা ও বাস্তব জ্ঞান অর্জনে সমৃদ্ধ টেকসই শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে একটি আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর নতুন ও উদ্যমী প্রজন্ম সৃষ্টির জন্য ‘শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ’ করা।