পাঁচ কন্যার নিরাপত্তার জন্য সরকারি সড়ক কেটে বেড়া নির্মাণ

শত বছর আগে খাস সম্পত্তিতে সীমানা নির্ধারন করে মানুষ চলাচলের উপযোগী হিসেবে কাঁচা মাটির সংযোগ সড়ক চিহ্নিত করে ব্রিটিশ সরকার। গ্রামীণ জনপদের ওই সড়ক দিয়েই পথচারী, স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া সহ অন্তত ৫টি পরিবারের পথচলা। আর দীর্ঘ কয়েক যুগেও বিকল্প সড়ক তৈরি না হওয়ায় আজও ব্রিটিশের রাস্তা নামে পরিচিত ওই কাঁচা মাটির মেঠোপথটিই একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম।

তবে সেই রাস্তা কেটে গভীর গর্ত সৃষ্টির পর বেড়া নির্মাণ করায় প্রতিবন্ধকতার কবলে পড়ে অবরুদ্ধ হয়ে আছে অন্তত ৫ পরিবার সহ প্রায় অর্ধশত মানুষ। তবে প্রায় ১০ দিন ধরে চরম ভোগান্তিতে রেখেও রাস্তা উন্মুক্ত করে দিতে নারাজ দখলকারী পরিবার।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের তাহেরপুর গ্রামে হযরত আলীর এমন অত্যাচারী কর্কামন্ডে এখন ফুসে উঠেছে স্থানীয় মানুষ। ভুক্তভোগীরা জানান, ওই গ্রামের ওমেদপুর মৌজার ৫২৭ দাগের ১ নং খাস খতিয়ানের সম্পত্তিতে সংযোগ সড়ক বহুকাল আগে নির্মিত। কিন্তু সড়ক নিজের রেকর্ডীও সম্পত্তি দাবি করে ১০ দিন আগে কাঠের গুড়ি দিয়ে বেড়া স্থাপন করেছেন হযরত আলী।

এতে এক প্রকার অবরুদ্ধ হয়ে চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আবদুল খালেক মুসুল্লী, ইদ্রিস, আবুল হাসান ও আবুল কালামের গোটা পরিবারের সদস্যরা। এছাড়াও প্রায় দুই বছর আগে একই সড়কের দুই তৃতীয়াংশ কেটে পুকুর খনন করেন তিনি।

এরপর সড়ক প্রতিবন্ধকতায় আটকে থেকে উপায়ান্ত না পেয়ে বেশ কিছুদিন এসব পরিবারের লোকজন ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প হিসেবে অপর এক প্রতিবেশীর গোরস্থানের পাশ দিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু সোমবার ভোরে প্রতিবেশি সামসুল হক সিকদার জাল দিয়ে সেই পথটিও বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে এখন গৃহবন্দী অবস্থায় রয়েছে পাঁচটি পরিবার।

ভুক্তভোগী বৃদ্ধা কহিনুর বেগম বলেন, আমার জন্মের আগ থেকে এই রাস্তটি ব্রিটিশ রাস্তা নামে পরিচিত। কিন্তু হযরত তার গায়ের জোরে রাস্তা কেটে বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করেছে। এটা অমানবিক এবং অন্যায়। আমাদের মূল সড়কে ওঠার বিকল্প কোন পথও নেই।

অপর ভুক্তভোগী লস্করপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বনি আমিন জানায়, রাস্তা বন্ধ করায় স্কুলে যেতে খুবই কষ্ট হয় এখন। এছাড়া আসছে বর্ষা মৌসুমে রাস্তা বন্ধ থাকলে পাঠদানে যেতে কোমর সমান পানি উপেক্ষা করতে হবে বলে অভিযোগ তার।

প্রতিবন্ধকতার কবলে থাকা খালেক মুসল্লি জানান, একাধিক বার শালিস বৈঠক করে হযরত ও তার পরিবারকে জানানো হলেও কিছুই মানছেন না তারা। এখন সরকারের কাছে এর প্রতিকার চেয়ে সড়ক মুক্ত করার দাবি জানান তিনি।

তবে এ বিষয়ে সড়ক দখলকারী হযরত আলী জানান, যখন তখন পুরুষ মানুষ তার বাড়ির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করে। তাই তার পাঁচ কন্যার নিরাপত্তার জন্য সড়কে বেড়া দিয়েছেন। কিন্তু যে মাটি কাটা হয়েছে তা তার রেকর্ডিও সম্পত্তি।

কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদীক বলেন, বিষয়টি সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে জেনেছি। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।