ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতা: সংবাদ প্রকাশের ১২ ঘণ্টার মধ্যেই তদন্ত কমিটি জবি ভিসির

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন ব্যাচের ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিন। ফল প্রকাশে বিলম্বের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং এ বিষয়ে কারও দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দিতে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো: শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং এ বিষয়ে কারও দায়িত্ব অবহেলা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
চার সদস্যের এ কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. পরিমল বালা। সদস্য হিসেবে রয়েছেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সানজিদা ফারহানা এবং আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক শ্রীলিন রিচার্ডসন। কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. নাসির উদ্দিন তালুকদার।
এর আগে আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ১৬, ১৭, ১৮ ও ১৯ ব্যাচের ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির বিষয়টি উঠে আসে। বিশেষ করে ১৬ ব্যাচের চতুর্থ বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা গত ডিসেম্বর মাসে শেষ হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও ফল প্রকাশ না হওয়ায় চাকরি ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে। পাশাপাশি একাধিক ব্যাচের একাডেমিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরও ফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় সেশনজটের আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
এ বিষয়ে আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক দেবাশীষ বিশ্বাস জানিয়েছিলেন, “ফলাফল নিয়ে বিভাগ কাজ করছে এবং গত ২৩ আগস্ট ফলাফল পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।” তবে ফলাফল পাঠাতে বিলম্বের কারণ হিসেবে তিনি ইনস্টিটিউটের শিক্ষক স্বল্পতার কথা জানান। শিক্ষক সংকট নিরসনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান জানিয়েছিলেন, “আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের সংশ্লিষ্টরা ওই দিনই ফলাফলের বিষয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন। তাদের ফলাফল সংক্রান্ত কাজে একটি কারিগরি (টেকনিক্যাল) ভুল হয়েছিল, যা ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে।”
কয়েক দিনের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে ২৩ আগস্ট ফলাফল দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে, এর আগে এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে তাঁর কোনো কথা হয়নি বলে জানান তিনি।
দুই পক্ষের বক্তব্যে ফলাফল পাঠানোর সময় ও বিলম্বের কারণ নিয়ে ভিন্নতা সামনে আসার মধ্যেই উপাচার্যের নির্দেশে এবার বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করা হলো।
অফিস আদেশে কমিটিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে কমিটির তদন্তে ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতার প্রকৃত কারণ, শিক্ষক স্বল্পতার প্রভাব এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে ফলাফল পাঠানোর প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের দায়িত্বে অবহেলা বা প্রশাসনিক জটিলতা ছিল কি না—এসব বিষয় স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্ত শেষ করে ফল প্রকাশের জটিলতা নিরসনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন কোনো ব্যাচকে মাসের পর মাস ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






























