মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতসহ কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের ৮ দফা দাবি

আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা ও সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত, দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত এবং জেলা পরিষদের নিয়োগ ব্যবস্থাকে বৈষম্য ও অনিয়মমুক্ত করার দাবিতে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট ৮ দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি দিয়েছে কোটা বিরোধী ঐক্যজোট, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা শাখা।

সোমবার ১২টা ৩০ মিনিটে রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এ সময় কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের সদস্য সচিব মো. নুরুল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফজলে রাব্বি, ইব্রাহীম রুবেল, মো. শরিফ ও মো. আশরাফুল, সদস্য মো. আল আমিন, মো. রায়ন চৌধুরী শুভ, মো. দেলাওয়ার, মো. আরিফসহ সংগঠনের আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীন বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অস্পষ্টতা ও বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে আইন, সরকারি প্রজ্ঞাপন এবং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত নিয়োগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, জেলা পরিষদের অধীন সকল নিয়োগে ৯৩ শতাংশ মেধা ও ৭ শতাংশ কোটার ভিত্তিতে নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসনের কার্যকর তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে হবে। প্রস্তুতকৃত প্রশ্নপত্র জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে ট্রেজারিতে নিরাপদে সংরক্ষণ করতে হবে এবং পরীক্ষা শুরুর পূর্বে তা পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের রোল নম্বর, নাম, পিতার নাম ও বিস্তারিত ঠিকানা প্রকাশ করতে হবে।

স্মারকলিপি গ্রহণকালে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উত্থাপিত দাবিগুলোর সঙ্গে একমত পোষণ করেন এবং দাবিগুলোকে যৌক্তিক হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের নেতৃবৃন্দ বলেন, কোনো জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্য সৃষ্টি করা কিংবা কোনো জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার হরণ করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। তাদের মূল দাবি হলো আইনের যথাযথ প্রয়োগ, মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন এবং সকল নাগরিকের জন্য ন্যায়সংগত সুযোগ নিশ্চিত করা।