ময়মনসিংহ-৩ আসন ধানের শীষ ও ঘোড়া প্রতীকের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) উপজেলা নিয়ে গঠিত একক এই আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে জমে উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী এম. ইকবাল হোসেইনের ধানের শীষ প্রতীক এবং বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণের ঘোড়া প্রতীকের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে।
এ আসনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দশ দলীয় জোটের নেজামে ইসলাম পার্টির বই প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আবু তাহের খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতী শরীফুল ইসলাম এবং বাসদ (মার্কসবাদী)’র কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী একেএম আরিফুল ইসলাম। তবে ভোটের মাঠে মূল আলোচনায় রয়েছেন ধানের শীষ ও ঘোড়া প্রতীকের দুই প্রার্থী।
দশ দলীয় জোটের প্রার্থী পরিবর্তন করে নেজামে ইসলাম পার্টিকে মনোনয়ন দেওয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রার্থী না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরণ মাঠে তুলনামূলক শক্ত অবস্থানে রয়েছেন—এমন মত স্থানীয় ভোটারদের একটি অংশের।
অন্যদিকে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এলাকায় তুলনামূলক কম সক্রিয় থাকায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ সীমিত বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে দলীয় পদধারী নেতাদের সমর্থন এবং জাতীয় প্রতীক ধানের শীষ পাওয়ায় তিনি সংগঠনগত সুবিধা পাচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির তৃণমূল পর্যায় ও সাধারণ ভোটারদের একটি অংশের কাছে স্বতন্ত্র প্রার্থী আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি রাজনৈতিক মামলাসহ নানা নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিষয়টিও তাঁর পক্ষে সহানুভূতি তৈরি করেছে বলে তৃণমূল নেতাদের অনেকে জানিয়েছেন।
অন্য তিন প্রার্থীর প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, এ আসনে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক শেষ পর্যন্ত যে প্রার্থীর দিকে ঝুঁকবে, সেই প্রার্থীর বিজয়ের সম্ভাবনাই বেশি থাকবে।
উল্লেখ্য, স্বতন্ত্র প্রার্থী আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ বিএনপির উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। গত ৯ নভেম্বর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তিনিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ২৭ নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।






























