যশোরের রাজগঞ্জে ভুলভাবে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের কারণে বাড়ছে জটিল রোগের ঝুঁকি

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ সামান্য অসুস্থ হলেই চিকিৎসার জন্য ছুটে যান গ্রাম্য চিকিৎসকদের কাছে। সহজে পাওয়া যায়, খরচ কম এই ভরসায় দীর্ঘদিন ধরে এসব চিকিৎসকেরই শরণাপন্ন হয়ে আসছেন সাধারণ মানুষ। আর এই সুযোগেই অনেক গ্রাম্য চিকিৎসক রোগের প্রকৃতি না বুঝেই নির্বিচারে অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন শক্তিশালী ওষুধ প্রয়োগ করছেন রোগীদের ওপর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে হালকা জ্বর বা ব্যথার মতো সাধারণ রোগেও অকারণে অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করা হচ্ছে। ফলস্বরূপ গ্রামের সরল-সোজা মানুষগুলো দ্রুত উপসর্গ কমে যাওয়ায় স্বস্তি পেলেও দীর্ঘমেয়াদে জড়িয়ে পড়ছেন নানা জটিল রোগের ঝুঁকিতে। অনিয়মিত অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের কারণে শরীরে প্রতিরোধক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় ওষুধও আর ঠিকমতো কাজ করছে না।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মফিকুল ইসলাম বলেন, “জ্বর হলে প্যারাসিটামল দিলেই হয়, কিন্তু তারা সঙ্গে সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে দেয়। কয়েক দিন পর দেখি আগের চেয়ে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ি।”
কৃষক আবুল কাসেম জানান, “আমরা তো ডাক্তারি বুঝি না। যা দেয় তাই খাই। কিন্তু এখন বুঝছি শরীরে আগের মতো ওষুধ কাজ করছে না।”
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রামাঞ্চলে অজ্ঞতা ও দায়িত্বহীন চিকিৎসার ফলে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এতে সাধারণ সংক্রমণও ভবিষ্যতে মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।
রাজগঞ্জবাসী মনে করছে, গ্রাম্য চিকিৎসকদের অযাচিত ও ভুল চিকিৎসা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে আরও কঠোর হতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।
মানুষের জীবন নিয়ে এমন অবহেলার প্রতিকার না হলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


























