যশোরের রাজগঞ্জ বাজারের হোটেল-চায়ের দোকানে অনিরাপদ পানি ও নোংরা পরিবেশ, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রাজগঞ্জ বাজারের হোটেল, রেস্তোরাঁ ও চায়ের দোকানগুলোতে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে চলছে খাবার ও চা বিক্রি। অধিকাংশ দোকানেই ব্যবহৃত হচ্ছে না নিরাপদ খাবার পানি।
পাশাপাশা হোটেলগুলোর পরিবেশকদের (ওয়েটার) অপরিচ্ছন্ন পোশাক, নোংরা হাত ও বাজারের সামগ্রিক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে প্রতিনিয়ত মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
সরেজমিনে উপজেলার রাজগঞ্জ বাজার ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন হোটেল কর্মীরা। তবে এই ব্যস্ততার আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধির বালাই। অনিরাপদ পানির অবাধ ব্যবহার অভিযোগ, বাজারের অধিকাংশ হোটেল ও চায়ের দোকানে জোগান দেওয়া পানি পানের অযোগ্য।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ফিল্টার বা নিরাপদ পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। সরাসরি ট্যাপ বা অনিরাপদ নলকূপের পানি গ্লাসে ভরে দেওয়া হচ্ছে ক্রেতাদের। এমনকি নোংরা ড্রামের মধ্যে পানি জমিয়ে রেখে তা দিয়েই ধোয়া হচ্ছে চায়ের কাপ-খাবার খাওয়ার প্লেট ও গ্লাস। দেখা গেছে, হোটেলগুলোতে খাবার পরিবেশনকারী ও বাবুর্চিদের শারীরিক পরিচ্ছন্নতার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।
হাত না ধুয়েই খাবার পরিবেশন, টাকা লেনদেন, টেবিল মোছা এবং খাবার পরিবেশন- সব একই হাতে করছেন তারা। অধিকাংশ পরিবেশকের শরীরে রয়েছে নোংরা, ঘামে ভেজা ও ময়লাযুক্ত পোশাক, যা খাবারের গুণগত মান নিমেষেই নষ্ট করছে।
খোলা জায়গায় রয়েছে খাবার, চর্মরোগ বা অন্যান্য ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত কর্মীরাও কোনো ধরনের গ্লাভস বা মাস্ক ছাড়াই খাবার নাড়াচাড়া করছেন। বাজারে নিয়মিত আসা আব্দুল মোমিন (৪২) নামের এক ক্রেতা বলেন, “এখানে না খেয়ে উপায় নেই বলে বাধ্য হয়ে খেতে হয়। কিন্তু গ্লাসগুলোর দিকে তাকালে পানি খেতে ইচ্ছা করে না।
যারা খাবার দিচ্ছে, তাদের হাত ও জামাকাপড় এতটাই নোংরা যে দেখলেই বমি আসে। এভাবে চললে তো মানুষ অসুস্থ হবেই।” চিকিৎসকদের মতে, দূষিত পানি এবং অপরিচ্ছন্ন হাতের মাধ্যমে খাবার পরিবেশনের ফলে টাইফয়েড, ডায়রিয়া, জন্ডিস (হেপাটাইটিস-এ), আমাশয় ও বিভিন্ন গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা মহামারি আকার ধারণ করতে পারে।
বিশেষ করে করোনাকালীন সচেতনতার পর এই ধরনের অসচেতনতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, রাজগঞ্জ বাজারে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবি। হোটেল মালিকদের শুধু সতর্ক করাই নয়, বরং বড় অঙ্কের জরিমানা ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের আওতায় না আনলে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাজগঞ্জ বাজারের হোটেল ও চায়ের দোকানগুলোতে নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে এবং পরিবেশকদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।






























