যুক্তরাষ্ট্রে প্লেন বিধ্বস্ত, অনেকে হতাহত

যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যামাজনের একটি কার্গো প্লেন বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্য দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্লেনটি অবতরণের সময় রানওয়ে পেরিয়ে বিমানবন্দরের পাশের সড়কের দিকে চলে যায় এবং কয়েকটি গাড়িতে আঘাত করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে বোয়িং ৭৬৭-৩০০ প্লেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এটি পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মিয়ামিতে যাচ্ছিল।
দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে প্লেনে আগুন ধরে যায়। মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউ জানিয়েছে, প্লেনটি ‘একাধিক যানবাহনে’ আঘাত করেছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজে ৬০টির বেশি ফায়ার-রেসকিউ ইউনিট কাজ করেছে। ফায়ার রেসকিউ প্রধান রে জাদাল্লাহ জানান, দুর্ঘটনার পর কয়েকজন মানুষ গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন। প্লেনের পাইলট ও কো-পাইলটও ভেতরে আটকা ছিলেন।
তবে প্লেনটিতে মোট কতজন ক্রু বা যাত্রী ছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরও প্লেন থেকে জ্বালানি লিক হচ্ছিল বলে জানান জাদাল্লাহ।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে বিমানবন্দরের কাছে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্লেনের মূল কাঠামো অনেকটাই অক্ষত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত প্লেনটির বয়স ছিল ৩২ বছর। দুই দশকেরও বেশি সময় এটি যাত্রীবাহী প্লেন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ২০১৫ সালে প্লেনটিকে কার্গো পরিবহনের জন্য রূপান্তর করা হয়।
অ্যামাজন জানিয়েছে, প্লেনটি পরিচালনা করছিল ২১ এয়ার।
দুর্ঘটনাটিকে ‘একটি ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে অ্যামাজনের মুখপাত্র কেলি ন্যান্টেল বলেন, ঘটনার কারণ জানতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা, সুস্থতা ও সহায়তাকে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে অ্যামাজন।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর মিয়ামি বিমানবন্দরে প্লেন চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানান, মিয়ামিতে সব ধরনের বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যাত্রীদের উল্লেখযোগ্য বিলম্বের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়।
দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। এফএএ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
সূত্র: আল-জাজিরা






























