সাতক্ষীরায় সেই মুক্তিযোদ্ধার ভাড়া দেওয়া দোকানে আগুনের ঘটনায় আটক ১

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরে বীর মুক্তিযোদ্ধার ভাড়া দেওয়া দোকানে আগুন দেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় মেহেদী হাসান (২৫) নামের এক আসামিকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় প্রতাপনগরের নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

আশাশুনি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নিতীশ বিশ্বাস বলেন, ‘আমি সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে রোববার সন্ধ্যায় মামলার ২ নম্বর আসামি মেহেদী হাসানকে তার প্রতাপনগরের বাড়ি থেকে আটক করেছি। অন্য আসামিদের আটকের প্রস্তুতি চলছে।

মামলার বাদী মারুফ বিল্লাহ বলেন, সংবাদ প্রকাশের পর ২৩ সেপ্টেম্বর থানায় মামলা হয়। পরে আজ মামলার অন্যতম আসামিকে পুলিশ আটক করেছে। এ জন্য তিনি পুলিশকে ধন্যবাদ জানান।

এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে প্রতাপনগর পশ্চিম মাথার বিট হাউস মোড় এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমানের ভাড়া দেওয়া দোকানে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। দোকানটি ভাড়া নিয়ে ‘মহিব টেলিকম অ্যান্ড স্টোর’ নামে ব্যবসা পরিচালনা করেন মারুফ বিল্লাহ। দোকানের পেছনেই বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমানের বাড়ি।

মারুফ বিল্লাহর করা অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার এক দিন আগে ১৮ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিকাশে টাকা দেওয়া-নেওয়া নিয়ে তাঁর ছোট ভাই মহিবুল্লাহর সঙ্গে মেহেদী হাসানের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মেহেদী তাঁর ভাইকে দোকান থেকে টেনে বাইরে নিয়ে যান এবং তাঁর মুঠোফোন নিয়ে নেন। এ সময় দোকানে আগুন দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মারুফ বিল্লাহ বলেন, ১৯ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ৯টার দিকে তাঁর ছোট ভাই দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান। রাত দেড়টার দিকে স্থানীয় লিয়াকত আলী ফোন করে দোকানে আগুন লাগার খবর দেন। পরে তাঁর ছোট ভাই, বাবা আজিজুর রহমান, মা মাহমুদা খাতুনসহ স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।

আগুনে দোকানে থাকা প্রায় ছয় লাখ টাকার বৈদ্যুতিক মালামাল পুড়ে গেছে বলে দাবি করেন মারুফ বিল্লাহ। একই সঙ্গে গ্রাহকদের কাছে পাওনা প্রায় দুই লাখ ২০ হাজার টাকার হিসাব সংবলিত খাতাও পুড়ে যায় বলে জানান তিনি।

মামলায় মেহেদী হাসানসহ মো. আরাফাত হোসেন, মো. আবুজার, মো. রাজা হোসেন ও মো. হাবিবুল্লাহ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মারুফ বিল্লাহর অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে দোকানে আগুন লাগিয়ে থাকতে পারেন। তবে এসব অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমানের ছেলে গাজী আরেফিন বলেন, আগুনে দোকানের পাশাপাশি তাঁদের বাড়ির আশপাশের খেজুর, তেঁতুল, আম ও কলাগাছ এবং কবুতরের ঘরেরও ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, দোকানের ভাড়াটিয়া মারুফ বিল্লাহ ঘটনার পর থানায় অভিযোগ করেছিলেন। পরে মামলা হয়েছে। এখন পুলিশ একজনকে আটক করেছে।