স্বাধীনতার পর থেকেই রাজগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবি-
‘রাজগঞ্জ থানা’ বাস্তবায়ন কবে? আশ্বাস মিললেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ জনপদ রাজগঞ্জকে পূর্ণাঙ্গ থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি নতুন নয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই এটি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের আকাক্সক্ষা। কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও নানা প্রতিশ্রুতি ও ঘোষণার পরও বাস্তবায়নের অগ্রগতি দৃশ্যমান না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা বাড়লেও দাবি আদায়ে তারা এখনো অবিচল। দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও জনদাবি : রাজগঞ্জকে থানা ঘোষণার দাবিতে স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। সময়ের পরিক্রমায় মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, জনসংখ্যা, ভৌগোলিক বিস্তৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, শিক্ষা ও প্রশাসনিক অবকাঠামোর দিক থেকে রাজগঞ্জ একটি পূর্ণাঙ্গ থানার সব শর্ত পূরণ করে। প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতা, বাস্তবতায় স্থবিরতা : বিভিন্ন সময়ে সফরে এসে বহু সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা রাজগঞ্জকে থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দিয়েছেন। তৎকালীন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট খান টিপু সুলতান জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং প্রশাসনিকভাবে রাজগঞ্জকে থানা ঘোষণার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয় বলে জানা যায়। তবে রহস্যজনক কারণে সেই ঘোষণা কার্যকর হয়নি, যা আজও এলাকাবাসীর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা একাধিকবার এলাকা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দিলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। কাগজপত্র সম্পন্ন, তবুও অনিশ্চয়তা : স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, থানা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় নথি, সুপারিশ, জনমত এবং সম্ভাব্য অবকাঠামোগত পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বহু আগেই জমা দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য থানা ভবনের স্থান নির্ধারণ এবং প্রশাসনিক সুবিধা মূল্যায়নের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমান এমপির আশ্বাসে নতুন আশা : যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজগঞ্জকে থানা করার বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। রাজগঞ্জে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “রাজগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও তদবির চলছে। আশা করছি, শিগগিরই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।” তার এই আশ্বাস এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করলেও বাস্তব অগ্রগতি দেখতে চান তারা। বাস্তবায়ন কমিটির প্রত্যাশা : রাজগঞ্জ থানা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আলহাজ কফিল উদ্দিন বলেন, “এটি শুধু উন্নয়নের প্রশ্ন নয়, এটি সময়ের দাবি। প্রশাসনিক সেবা নিতে রাজগঞ্জবাসীকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দুর মনিরামপুর পর্যন্ত যেতে হয়, যা ভোগান্তির কারণ। থানা হলে মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছাবে। আমরা সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি, এখন শুধু সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।” সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও প্রত্যাশা : স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু সাঈদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাজগঞ্জের মতো বড় ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এখনো থানা না থাকা দুঃখজনক। বছরের পর বছর শুধু আশ্বাস শুনছি, কিন্তু বাস্তবে কিছুই হচ্ছে না।” এলাকাবাসীর মতে, থানা বাস্তবায়িত হলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং প্রশাসনিক সেবার সহজলভ্যতা নিশ্চিত হবে। শেষ কথা : দীর্ঘদিনের আন্দোলন, প্রতিশ্রুতি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও রাজগঞ্জ থানা বাস্তবায়ন অনিশ্চয়তায় আটকে আছে। ফলে এলাকাবাসীর একটাই প্রশ্ন। স্বাধীনতার এত বছর পরও কেন তাদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়িত হলো না? এখন দেখার বিষয়, সরকারের সদিচ্ছা ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের কার্যকর উদ্যোগে রাজগঞ্জবাসীর বহু প্রতীক্ষিত স্বপ্ন কবে বাস্তবে রূপ নেয়।






























