লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ঝুঁকিপূর্ন জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমে পাল্টে গেছে চিত্র

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় গণ উন্নয়ন কেন্দ্র নামক একটি সংস্থা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাব মোকাবিলা করে ঝুঁকিপূর্ন জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জনদূর্ভোগ নিরসনে ভূমিকা রাখছে। ফলে চরাঞ্চলের দুর্ভোগ অনেকটা কমে গেছে। চলাচলের ক্ষেত্রে অনেক সুবিধাভোগ করছে স্থানীয়রা।

আগে রাস্তার অভাবে মাইলের পর মাইল হেঁটে অনেক কষ্টে হাট বাজার, স্কুল কলেজে যাতায়াত করতে হতো। কিন্তু জেড জুরিখ ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবং কনসার্ন ওয়াল্ড ওয়াইডের কারিগরি সহায়তায় জুরিখ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের আওতায় গণ উন্নয়ন কেন্দ্র নামের একটি সংস্থা জনহিতকর নানামুখী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

উক্ত প্রকল্পের আওতায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় ৪২ শ’ ফুটের ৫টি গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণ করেছে। এসব রাস্তা নির্মাণের ফলে স্থানীয় জনগণের দৈনন্দিন চলাচল সহজ হয়েছে এবং শিক্ষার্থী, রোগী, নারী ও প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও স্থানীয় বাজারে নিরাপদ ও দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত হয়েছে।

একই সঙ্গে একটি স্কুল মাঠ উঁচুকরণ করেছে সংস্থাটি। যা বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও জলাবদ্ধতার সময় শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং মাঠটি দুর্যোগকালীন আশ্রয় হিসেবেও ব্যবহারে সুযোগ সৃষ্টি করবে।

পানি নিস্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি ইউ- ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে, যার ফলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার টেকসই সমাধান পাওয়া যাচ্ছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং সবুজায়ন জোরদারের লক্ষ্যে ৩টি রাস্তায় পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষ রোপণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়, যা ভবিষ্যতে ছায়া সৃষ্টি কার্বন নি:সরণ হ্রাসে সহায়ক হবে।

তীব্র তাপদাহ মোকাবিলায় অভিযোজনমুলক উদ্যোগ হিসেবে ৪০টি ঝুঁকিপূর্ন পরিবারের ঘরের টিনের চালার ওপর মাচা স্থাপন করা হয়েছে, যা ঘরের অভ্যন্তরের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়তা করছে।পাশাপাশি ৪৫টি ঘরের ছাদ উন্নয়ন করা হয়েছে।

খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০ জন উপকারভোগীর জন্য বস্তা পদ্ধতিতে সবজি চাষ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে, যা পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত আয় সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে।

দাপদাহের সময় নারী, শিশু ও প্রবীণদের সুরক্ষার জন্য ৯টি শীতল ছায়া ঘর স্থাপন করা হয়েছে। দূর্যোগ প্রস্তুতি ও জরুরি সাড়া প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৫টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে সাম্প্রতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সহায়তার জন্য ১ হাজার ৫০টি পরিবারকে বিকাশের মাধ্যমে জনপ্রতি ৬৫০০ টাকা নগত অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

নদীভাঙ্গন রোধ ও নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে এ প্রকল্পের আওতায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়নের সিন্দুর্না কমিউনিটিতে ১টি বান্ডাল নির্মাণ করা হয়েছে, যা স্থানীয় জনগণের জন্য একটি কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব প্রকৃতি ভিত্তিক সমাধান হিসেবে কাজ করছে।

গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রজেক্ট ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম জানান, এসব সমন্বিত উদ্যোগ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ঝুঁকি হ্রাস, অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই জলবায়ু সহনশীলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।