উত্তরায় ভয়াবহ আগুনে নিহত ৬
‘হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেখি চারদিকে ধোঁয়া আর ধোঁয়া’

রাজধানীর উত্তরায় একটি আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ৬ জন। এতে আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আগুনে পুড়ে যাওয়া ভবনের এক বাসিন্দার বয়ানে এবার উঠে এসেছে ঘটনার বিভৎসতার চিত্র। অগ্নিকুণ্ড থেকে কোনোভাবে প্রাণে বেঁচে ফেরা শিবলু গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে এই দৃশ্য বর্ণনা করেছেন।
তিনি ভবনটির চতুর্থ তলার বাসিন্দা। সেখানে তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন।
ঘটনার বর্ণনায় শিবলু বলেন, যখন আগুনের ঘটনা ঘটে তখন আমরা ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে ওপর থেকে গ্লাস ভেঙে পড়ার শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। আগুন যে লেগেছে এটা বুঝতে পারিনি। শব্দ পাচ্ছি ওপর তলায় গ্লাসের মতো কি যেন ভেঙে ভেঙে গুঁড়ো হয়ে ফ্লোরজুড়ে পড়ছে বৃষ্টির মতো। তখনই আমার ঘুম ভেঙে যায়। সবাইকে নিয়ে দৌড়ে বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু এত ধোঁয়া, ধোঁয়া দেখে দরজা বন্ধ করে দিয়ে ভেতরে নিরাপদে থাকার চেষ্টা করি। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আমরা নিরাপদে বের হই।
এদিকে ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনের মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স।
ফায়ার সার্ভিসের জনসংযোগ শাখার কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম সকালে জানিয়েছিলেন, উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের বাড়িটিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। দ্বিতীয় তলায় আগুন লেগেছিল। ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া ১৩ জনকে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সর্বশেষ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর আগে সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে ওই ছয় তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগার খবর পান তারা।
এদিকে এই ঘটনার পর ভবনটি ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর সদস্যরা। ভেতরে অবস্থান করছে পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার (সিআইডি) সদস্যরা। দুপুরের পর পর ভবনটির আশপাশে বিপুল পরিমাণ উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। তবে ক্রাইম সিন টেপ দিয়ে ভবনের ভেতর প্রবেশ মুখ ও প্রধান ফটক ঘিরে রাখা হয়।
পুলিশ জানায়, নিহতরা দুই পরিবারের সদস্য। তারা পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলার দুটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। এর মধ্যে কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী (৩৮), তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭) এবং তাদের ছেলে কাজী ফাইয়াজ রিশান (২) এক ফ্ল্যাটে থাকতেন।
অন্য পরিবারের সদস্যরা হলেন মো. হারিছ উদ্দিন (৫২), তার ছেলে মো. রাহাব (১৭) এবং হারিছের ভাতিজি রোদেলা আক্তার (১৪)। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে।
উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি রফিক আহমেদ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ভবনটির রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। রান্নাঘরের বৈদ্যুতিক গোলোযোগে কিংবা গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।






























