ঢাকার অলিগলিতে বেওয়ারিশ কুকুরের রাজত্ব

ভোরের ঢাকায় মা-বাবার সাথে স্কুলব্যাগ কাঁধে শিশুটি গলির মাথায় এসে থমকে দাঁড়ালো। কি হয়েছে দাড়ালে কেন।সামনে রাস্তার মোড়ে ৭-৮টি কুকুর দল বেঁধে বসে আছে। একটু পরেই অফিসগামী মানুষজন বেরোবে, দোকান খুলবে, রাস্তায় নামবে জীবন।
ঢাকার প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি—সবখানেই আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বেওয়ারিশ কুকুর। কোথাও দল বেঁধে ঘোরাফেরা, কোথাও আবার হঠাৎ তাড়া বা আক্রমণ। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বয়স্কদের কাছে পথ চলাই হয়ে উঠছে আতঙ্কের নাম।
সরেজমিনে দেখা গেছে,শহরের রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো বহু কুকুরই অসুস্থ, ক্ষতবিক্ষত কিংবা অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা গেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কুকুর জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের বাহক হতে পারে। ঢাকার ফুটপাতে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান অসংখ্য মানুষ।
আবার রাস্তার পাশেই খোলা দোকানে বিক্রি হয় খাবার। এসব জায়গায় বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ চলাচল মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে,২০২৩ সালে সারা দেশে ৬ লাখের বেশি মানুষ কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্কের টিকা নিয়েছে। ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লাখ। মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ২০২৩ সালে কুকুর-বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর আক্রমণে চিকিৎসা নিয়েছেন ৯৪ হাজার ৩৮০ জন ।যাদের সিংহভাগই কুকুরে কামড়ানো রোগী।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের হিসাবে শহরে প্রায় ৫০ হাজার এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের হিসাবে প্রায় ২৩ হাজার বেওয়ারিশ কুকুর রয়েছে।
২০১৯ সালের প্রাণিকল্যাণ আইন অনুযায়ী মালিকানাবিহীন হলেও কোনো প্রাণী হত্যা বা স্থানান্তর দণ্ডনীয় অপরাধ। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে কুকুর নিধনে। ফলে বিকল্প হিসেবে সামনে আসে কুকুরের বন্ধ্যাত্বকরণ ও গণটিকাদান কর্মসূচি।
স্বাস্থ্য অধিদফতর ২০৩০ সালের মধ্যে জলাতঙ্ক নির্মূলের লক্ষ্য নিয়ে গত এক দশকে তিন রাউন্ডে ২৪ লাখের বেশি কুকুরকে টিকা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো এলাকায় ৭০ শতাংশ কুকুরকে টিকার আওতায় আনতে পারলে জলাতঙ্কের সংক্রমণচক্র ভেঙে পড়ে।
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, উন্নত বিশ্বে বেওয়ারিশ কুকুর শহরের রাস্তায় দেখা যায় না। সেখানে পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত বন্ধ্যাত্বকরণ ও গণটিকাদানের মাধ্যমে কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা হয়।






























