জীবিকার সন্ধানে ঝালমুড়ি বিক্রেতা

যশোরের রাজগঞ্জে ফুটবলার জাহান আলীর জীবন সংগ্রাম হার না মানা এক ক্রীড়াসৈনিক

এক সময়ের মাঠ কাঁপানো ফুটবলার, রাজগঞ্জের গর্ব জাহান আলী আজ জীবনযুদ্ধে সংগ্রামী এক সৈনিক। যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জের হানুয়ার গ্রামের এই জনপ্রিয় ফুটবলার বর্তমানে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বাঁচার চেষ্টা করছেন। স্ত্রী, সন্তান নিয়ে অত্যন্ত সীমিত আয়ে চলছে তার সংসার।

বর্তমানে রাজগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে একটি ভ্যানে ঝালমুড়ি বিক্রি করেই জীবিকা অর্জন করেন তিনি। প্রতিদিন তার আয় মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। এই সামান্য আয়ের মধ্যেই চলছে এক সময়ের ফুটবল তুখোড় জাহান আলীর পরিবারের নিত্যদিনের সংগ্রাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহান আলী ছিলেন রাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন ছাত্র। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন এলাকার জনপ্রিয় ও নামকরা ফুটবলার। বিভিন্ন গ্রামের টুর্নামেন্টে তাকে খেলোয়াড় হিসেবে হায়ার করা হতো। মাঠে নামলেই দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে উঠত চারপাশ।

রাজগঞ্জ ফুটবল একাদশের হয়ে জাহান আলী বহু জয় উপহার দিয়েছেন স্থানীয় ফুটবল প্রেমীদের। কিন্তু সময়ের পালাবদলে হারিয়ে গেছে সেই উচ্ছ্বাস, হারিয়ে গেছে সেই তারুণ্যের দীপ্তি। শরীরে ক্ষয়ে যাওয়া শক্তি আর অভাবের নির্মম বাস্তবতাই তাকে ঠেলে দিয়েছে ঝালমুড়ির ভ্যানের পেছনে। তবুও হাল ছাড়েননি কিংবদন্তি এই ফুটবলার।

নিজের জীবনের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে জাহান আলী বলেন, “আমি ফুটবল খেলেছি মন-প্রাণ দিয়ে। মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি অনেক। কিন্তু আজ কেউ খোঁজ নেয় না। পরিবার নিয়ে ভ্যানের উপর ঝালমুড়ি বিক্রি করেই চলে দিন। ফুটবলার হিসেবে একটা স্বীকৃতি- এইটুকুই চাই।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, জাহান আলীর মতো প্রতিভাবান ফুটবলার আজ অবহেলায় মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এটা এলাকার ক্রীড়া অঙ্গনের জন্য লজ্জাজনক। সংশ্লিষ্টদের প্রতি তার প্রতি নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এক সময়ের মাঠ কাঁপানো সেই ফুটবলার আজ দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়ে জীবনধারণ করলেও হৃদয়ে এখনও বুকে ধারণ করে রেখেছেন ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা আর সম্মান।