যশোরের মনিরামপুরের টেকারঘাট স্কুল মাঠের ভোরের হাটে জমে দেশি মাছের বেচাকেনা

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার টেকারঘাট স্কুল মাঠে প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার আগেই বসে এক প্রাণচঞ্চল গ্রামীণ হাট। স্থানীয়ভাবে পরিচিত এই হাটকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন শত শত ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটে। বিশেষ করে দেশি প্রজাতির মাছের বেচাকেনার জন্য হাটটি এলাকায় একটি নির্ভরযোগ্য ও জনপ্রিয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে শুরু হওয়া এই হাটে আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে মাছ ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা ছুটে আসেন। খাল-বিল, নদী ও বিভিন্ন জলাশয় থেকে ধরা টেংরা, শিং, মাগুর, কৈ, পুঁটি, খলিশা, টাকি, শোলসহ নানা প্রজাতির দেশি মাছ বিক্রি হয় এখানে। ফলে তাজা মাছের সন্ধানে অনেকেই ভোরবেলা হাটে উপস্থিত হন।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, “অনেক বছর ধরে এই হাট বসছে। ভোরে এখানে আসলে টাটকা দেশি মাছ পাওয়া যায়। এলাকার মানুষের কাছে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার।”

মৎস্যজীবি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, “আমরা বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছ সংগ্রহ করে এখানে বিক্রি করি। ক্রেতার সংখ্যা ভালো থাকায় প্রতিদিনই মোটামুটি ভালো ব্যবসা হয়। অনেক মানুষ দূর থেকেও মাছ কিনতে আসেন।”

ক্রেতা নাসিমা বেগম বলেন, “দেশি মাছের জন্য এই হাটের সুনাম আছে। এখানে মাছ তুলনামূলক তাজা পাওয়া যায় এবং দামও অনেক সময় অন্যান্য বাজারের চেয়ে সহনীয় থাকে।”

আরেক বিক্রেতা হাবিবুর রহমান বলেন, “ভোরবেলার এই হাট আমাদের জীবিকার একটি বড় মাধ্যম। প্রতিদিন এখানে ভালো পরিমাণ মাছ বিক্রি হয়, যা দিয়ে পরিবারের খরচ চালাতে সুবিধা হয়।”

স্থানীয়দের মতে, টেকারঘাট স্কুল মাঠের এই ভোরের হাট শুধু মাছ কেনাবেচার স্থান নয়, বরং এটি এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। কৃষিপণ্য, শাকসবজি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীও এখানে বিক্রি হলেও দেশি মাছের বাজারই হাটটির প্রধান আকর্ষণ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে টেকারঘাটের এই ঐতিহ্যবাহী ভোরের হাট আরও সমৃদ্ধ হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।