খাগড়াছড়িতে পৃথক ঘটনায় ইউপিডিএফ’র ২জন সদস্য নিহত, অস্ত্র উদ্ধার, আটক-১

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় ২টি উপজেলাতে পৃথক ঘটনায় ইউপিডিএফ’র ২জন সদস্য নিহত, একজনকে আটক, অস্ত্র উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। তবে রামগড়ে সেনাবাহিনী কর্তৃক গুলি করে এক ইউপিডিএফ কর্মীকে হত্যা, আরেকজনকে আহত অবস্থায় আটক এবং দীঘিনালায় পিসিজেএসএস সন্তু গ্রুপের সন্ত্রাসী কর্তৃক এক ইউপিডিএফ সদস্যকে গুলি করে হত্যা ঘটনায় ইউপিডিএফের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
সংগঠনটির জেলা সংগঠক অংগ্য মারমা এ ঘটনাকে হত্যাকান্ড দাবি করেন। তিনি বলেন, ইউপিডিএফের দুই সদস্য সেখানে সাংগঠনিক কাজ অবস্থান করছিলেন।
জেলার রামগড় ও দীঘিনালা উপজেলায় পৃথক ঘটনায় ইউপিডিএফের(মূল) ২জন সদস্য নিহত হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত অবস্থায় একজনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। ঘটনাস্থল থেকে একে-৪৭ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে।
বুধবার(২৪শে জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামগড় উপজেলার প্রেমতলা নামক এলাকায় সেনাবাহিনীর সাথে ইউপিডিএফ সদস্যদের সাথে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ববিন ত্রিপুরা নামে এক ইউপিডিএফ সদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।
এ সময় মংসানু মারমা নামে অপর এক ইউপিডিএফ আহত হন। তাকে আহত অবস্থায় আটক করেছে সেনাবাহিনীর সিন্দুকছড়ি জোনের সদস্যরা। ঘটনাস্থল থেকে একটি একে-৪৭ অস্ত্র উদ্ধার করা হয় বলে জানায় নিরাপত্তা বাহিনী।
রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো: নাজির আলম জানান, সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামগড়ের সীমান্তবর্তী প্রেমতলা এলাকায় অভিযানে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ইউপিডিএফ সদস্যরা গুলি ছুড়ঁলে আত্মরক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাল্টা গুলি ছুঁড়ে। এতে একজন নিহত হয়। আহত হয় আরও অপর একজন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সিন্দুকছড়ি সেনা জোনের অধিনায়ক।
এদিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়ার মুড়োপাড়া এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(পিসিজেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)’র মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার(২৪শে জুন) দুপুর পৌণে ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় সুজন চাকমা নামে এক ইউপিডিএফ সদস্য নিহত হয়েছে। তিনি কবাখালী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের তারাবন্যা গ্রামের বাসিন্দা। তবে পিসিজেএসএস সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় সুজন চাকমা নিহত হয় বলে দাবি ইউপিডিএফের।
দীঘিনালা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো: ইকবাল বাহার বলেন, পুলিশ গুলাগুলিতে নিহতের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দীঘিনালা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সুজন চাকমার মরদেহ উদ্ধার করেছে। খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
অপরদিকে খাগড়াছড়ির রামগড়ে সেনাবাহিনী কর্তৃক ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)-এর এক কর্মীকে গুলি করে হত্যা ও আরেক কর্মীকে আহত অবস্থায় আটকের খবরের বুধবার (২৪ জুন) ইউপিডিএফের খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক সংগঠক অংগ্য মারমা সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে উক্ত ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, বৃধবার সকাল ১০টার সময় রামগড় উপজেলার প্রেমতলা নামক স্থানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সেনাবাহিনীর একদল সদস্য ইউপিডিএফ কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে সেনাদের গুলিতে ববিন ত্রিপুরা(৩২) নামে একজন নিহত হয় ও মংসানু মারমা ওরফে জীবন(২৯) নামে একজনের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে আহত অবস্থায় আটক করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে অংগ্য মারমা উক্ত ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড উল্লেখ করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ইউপিডিএফের নেতৃত্বে চলমান ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে বানচাল করে দেয়ার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী এ ধরনের বিচার বহির্ভুত অমানবিক কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। তবে যতই দমন-পীড়ন ও হত্যাকান্ড চালানো হোক না কেন ইউপিডিএফের নেতৃত্বে সংগঠিত গণআন্দোলকে স্তব্ধ করা যাবে না।
তিনি “সেনাবাহিনীর সাথে ইউপিডিএফের গোলাগুলি ও অস্ত্র উদ্ধারের” দাবিকে মিথ্যা ও বানোয়াট উল্লেখ করে নাখোশ করেন। ইউপিডিএফ নেতা অবিলম্বে ইউপিডিএফের ওপর রাজনৈতিক দমন পীড়ন বন্ধ, উক্ত খুনের ঘটনায় জড়িত সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আটক ইউপিডিএফ সদস্যকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানান।
অন্যদিকে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পিসিজেএসএস সন্তু গ্রæুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ইউপিডিএফের এক সদস্যকে গুলি করে হত্যা করেছে। বুধবার(২৪শে জুন ২০২৬) দুপুরে দীঘিনালার বাবুছড়া মুড়োপাড়া চৌমুহনী রাস্তার মোড়ে এ ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ইউপিডিএফ সদস্যের নাম সুজন চাকমা(৪৮), পিতা- বিনন্দ মোহন চাকমা। তার বাড়ি কবাখালি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের তারাবন্যা গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর আনুমানিক ১২:৪৫টার দিকে চিনুমং মারমার পরিচালিত সশস্ত্র গ্রুপের কমান্ডার পূর্ণ প্রিয় চাকমার নেতৃত্বে পিসিজেএসএস (সন্তু)-এর ৫-৬জনের একদল সশস্ত্র সদস্য সাধারণ পোশাক পরিহিত অবস্থায় দীঘিনালা বাবুছড়া মুড়োপাড়া চৌমুহনী রাস্তার মোড় এলাকায় অতর্কিতে হানা দেয়।
এ সময় সন্ত্রাসীরা সেখানে সাংগঠনিক কাজে অবস্থানরত ইউপিডিএফ সদস্য সুজন চাকমাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
সুজন চাকমাকে হত্যার পর সন্ত্রাসীরা সাধনাটিলা রাস্তা হয়ে জারুলছড়ি সেনা ক্যাম্পের পাশ দিয়ে ধনপাদার দিকে চলে যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী এ ঘটনার সাথে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর যোগসাজশ থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় ইউপিডিএফের দীঘিনালা ইউনিটের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং হত্যাকারী সন্তু গ্রæুপের সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) প্রচার ও কাশনা বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।






























