আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আঁধারে ঝুঁপড়ি ঘর নির্মাণ করে জমি দখলের অভিযোগ

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের বদরতলা বাশিরামপুর এলাকায় আদালতের পার্টিশন মামলা ও আদালতের স্থিতাবস্থা রক্ষার নির্দেশনা অমান্য করে বিবাদীপক্ষের বিরুদ্ধে বসতঘর ভাঙচুর করে জোরপূর্বক ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করে পৈত্রিক সম্পত্তি জবর দখলের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। একই এলাকার মোঃ সব্বত আলী মোল্লার ছেলে অভিযোগকারী মোঃ হাফিজুল ইসলাম, মোঃ সাজ্জাদুল ইসলাম ও মোঃ সাইজুল ইসলাম জানান, বিবাদী মোঃ হবিবর রহমান মোল্লার ছেলে মোঃ মোমিন মোল্লা একজন আইন অমান্যকারী ও পরসম্পদ লোভী প্রকৃতির লোক।
আমার পিতা আশাশুনি থানাধীন বাঁশিরামপুর গ্রামের ঘনোশ্যাম এর দুই পুত্র গোপাল গাইন ও মন্টু গাইনের নিকট হতে দুইটি কোবলায় ৩৩ শতক জমি ক্রয় করে। অন্যদিকে গোপাল গাইন এর পুত্র ২৪০ ও ২৪২ হাল দাগে উক্ত জমি বিবাদীর কাছে ১৯/০১/২০২৬ তারিখে বিক্রয় করলে উক্ত বিবাদী মোমিন মোল্লা ২০/০১/২০২৬ তারিখে অজ্ঞাতনামা বিবাদীদের সহায়তায় অস্ত্রশস্ত্রসহ সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে মোঃ মোমিন মোল্লা। রাত্র অনুমান ১১ ঘটিকার সময় আমাদের নির্মাণাধীন ঘরবাড়ি ভাঙ্গিয়া দিয়া আমাদেরকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করে।
বিষয়টি তাৎক্ষণিক শোভনালী ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিককে অবহিত করলে তিনি পূর্বে বিজ্ঞ আদালতে দায়ের করা মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সকল প্রকার কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন এবং মীমাংসা করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এমতাবস্থায় গত ৫/৮/২০২৬ তারিখ গভীর রাতে বিবাদী মোমিন মোল্লা অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীদের সহায়তায় আমার দখলীয় জমির উপর ২টি ঝুঁপড়ি ঘর নির্মাণ করেছে। আমরা চাই জমির দলিল অনুযায়ী যে যার দখল বজায় থাকুক। কিন্তু বিবাদী আইনের তোয়াক্কা না করে সে আমাদের জমি জোরপূর্বক জবরদখল করে আছে।
এ ব্যাপারে বিবাদী মোমিন মোল্লা জানান, বাদীপক্ষ জমি পাবে। কিন্তু বাদীপক্ষ যেখানে জমি দাবী করছে সেটা অন্য দাগের জমি। বাদীপক্ষ ক্রয়সূত্রে ২৪০/২৪২ দুটি দাগে ৩৩ শতক জমির প্রকৃত মালিক। কিন্তু অতিরিক্ত ১৩ শতক জমি তারা দাবি করছে।
এঘটনায় আশাশুনি থানার এএসআই ইব্রাহিম হোসেন জানান, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং উভয় পক্ষকে আশাশুনি থানায় তাদের দলিল পত্রসহ হাজির হতে বলেছি। দলিল পত্র পর্যালোচনা করে মীমাংসার চেষ্টা করব।
বাদী মোঃ সাজ্জাদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, “আদালতের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তারা জোর করে ঝুপড়ি ঘর তুলছে। নিষেধ করায় আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেছে, হত্যার হুমকিও দিয়েছে। আমরা এখন সম্পূর্ণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এমন জোরপূর্বক জমি দখল ও ঘর নির্মাণ সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় দেখা যায়নি। এতে জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বাদীপক্ষ দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা এবং বিবাদীপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।





























