শাশুড়িকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, পুলিশের হাতে পুত্রবধূ ও তার মা

যশোরের মণিরামপুরে পুষ্পা দাস (৪৫) নামে এক বিধবা নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার পুত্রবধূ ও পুত্রবধূর মায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ পুত্রবধূ মিতা দাস (২২) ও তার মা সুনীতা দাস (৪৫)কে আটক করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শিরালি মদনপুর ঋষিপল্লিতে। নিহত পুষ্পা দাস ওই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একমাত্র ছেলে হৃদয় দাস (২৫), পুত্রবধূ মিতা দাস ও এক নাতিকে নিয়ে বাড়িতে বসবাস করতেন।
স্থানীয় সূত্র ও নিহতের ছেলে হৃদয় দাসের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই দিন আগে তার শাশুড়ি সুনীতা দাস মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে পুষ্পা দাস কাজে যান। দুপুরে বাড়ি ফিরে রান্নাবান্না করেন। বিকেলে ছেলে হৃদয়ের সঙ্গে কথা বলার পর হৃদয় ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে মণিরামপুর বাজারে যান।
এর কিছুক্ষণ পরই ঘটে বিপত্তি। বাজারে অবস্থানকালে হৃদয় খবর পান, তার মা পুষ্পা দাস আর নেই। দ্রুত বাড়িতে ফিরে তিনি বারান্দায় মায়ের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় পুষ্পা দাসের থুতনির নিচে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন এবং রক্তাক্ত ক্ষত দেখতে পান বলে দাবি করেন হৃদয়।
হৃদয় দাসের অভিযোগ, তার স্ত্রী মিতা দাস ও শাশুড়ি সুনীতা দাস মিলে তার মাকে মারধর করে হত্যা করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, এর আগেও তার শাশুড়ি নিজ বাড়িতে নিয়ে পুষ্পা দাসের গায়ে হাত তুলেছিলেন।
খবর পেয়ে মণিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়।
নিহতের ছেলে হৃদয় দাসের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পুত্রবধূ মিতা দাস ও তার মা সুনীতা দাসকে আটক করেছে।
এ ঘটনায় হৃদয় দাস বাদী হয়ে তার স্ত্রী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে মায়ের হত্যার অভিযোগে মামলা করছেন বলে জানিয়েছেন মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ।
তবে পুষ্পা দাসের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।






























