এইচএসসি’র ফলাফল

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে জিপিএ-৫ পেল মাত্র ৩ জন

এই ফলাফলের জন্য মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। বাবা-মায়ের দোয়ায় এই সাফল্য পেয়েছি। আমার ফলাফলে বাবা অনেক খুশি। বাবার সেই আনন্দ দেখে আমিও অনেক তৃপ্তি পেয়েছি। আমিও অনেক খুশি। কথাগুলো বলছিল নেত্রকোনার দুর্গাপুরের সুসং সরকারি মহাবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী সিফাত আহমেদ তালুকদার।
এর আগে এসএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ পেয়েছিল সে।

পৌর শহরের বাগিচাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. জামাল তালুকদারের ছেলে বড় সিফাত। জামাল তালুকদার পেশায় একজন
সাংবাদিক এবং প্রিন্টিং ব্যবসায়ী। ছেলের এমন সাফল্যে পরিবার ও সাংবাদিক মহলে আনন্দ বিরাজ করছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঘোষিত ফলাফলে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৩জন। তারা হলো, সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের সিফাত আহমেদ তালুকদার, মো. আসিফুর রহমান আসিফ এবং মানবিক বিভাগের নাঈমুর রহমান জয়। তিনজনই সুসং সরকারি মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

নাঈমুর রহমান জয়ের বাড়ী উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের দৌলদিয়া গ্রামে। এর আগে এসএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ পেয়েছিল সে। তার বাবা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব এবং মা গৃহিণী।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জয় বলে, আল্লাহ আমাকে এত ভালো ফলাফল দিয়েছেন এটা আমার সৌভাগ্য। ভালো
ফলাফলের পেছনে শুধু আমার চেষ্টা নয় বাবা-মা ও শিক্ষকদেরও অনেক পরিশ্রম রয়েছে। আমি চেষ্টা করেছি, আল্লাহ আমাকে
দিয়েছেন। আমি অনেক খুশি।

জয় জানায়, জীবনের লক্ষ্যকে একটি জায়গায় সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না সে। তার প্রথম স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ
পাওয়া। সেখান থেকেই জীবনে আরও বড় জায়গায় যাওয়ার পথ তৈরি করতে চায় সে।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া অপর শিক্ষার্থী মো. আসিফুর রহমান আসিফ। তার স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা
করার। তার মা হামিদা খাতুন একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা এবং বাবা আব্দুস ছালাম অবঃ এনজিও কর্মকর্তা। ছেলের সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করে মা হামিদা খাতুন বলেন, আমি অনেক খুশি। সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর উপজেলায় সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় মোট ১ হাজার ৬৩৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। তন্মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬৫৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র তিনজন।