চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের রসুলপুর গীতা স্কুলে ৬ষ্ঠ বার্ষিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বড়কুল ইউনিয়নের রসুলপুর (কৃষ্ণনগর) এলাকায় অবস্থিত সাধুর বাড়ি হরি মন্দির প্রাঙ্গণে ও নবতরুণ সংঘ আয়োজনে বাংলাদেশ লোকনাথ গীতা প্রচার সংঘ চাঁদপুর জেলা কর্তৃক পরিচালিত শ্রী শ্রী রসুলপুর সাধুর বাড়ি গীতা স্কুলের ৬ষ্ঠ বার্ষিক গীতা পাঠ অনুষ্ঠান, ধর্মীয় আলোচনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও নানা আয়োজন উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।
গত ৩০ মে ২০২৬ শনিবার দিনব্যাপী আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন শত শত ভক্তবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে সকাল থেকেই ভক্তদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে রসুলপুর (কৃষ্ণনগর) এলাকার সাধুর বাড়ি হরি মন্দির প্রাঙ্গণ।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে গীতা পাঠ, ধর্মীয় আলোচনা, গীতা প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ভক্তদের মাঝে প্রাসাদ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রসুলপুর গীতা স্কুলের সভাপতি প্রদীপ দাস। এ সময় সহ-সভাপতি সমীর সরকার, সাধারণ সম্পাদক ডাঃ উত্তম পোদ্দারসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লোকনাথ গীতা প্রচার সংঘ চাঁদপুর জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন দাস। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় আলোকিত করতে গীতা শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। গীতা পাঠের মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় চেতনা বিকশিত হয়। তিনি ভবিষ্যতে গীতা শিক্ষার আরও প্রসারে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিন্টু পোদ্দার, বিধান সরকার, পলাশ সরকার, ধনু সরকার, শ্যামল সরকার, অজিত সরকার, সঞ্জয়িত পোদ্দার, পঙ্কজ পোদ্দারসহ সংগঠনের সদস্যবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। নবতরুণ সংঘের সদস্যরাও অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল গীতা স্কুলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত গীতা প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা গীতা পাঠ, শ্লোক আবৃত্তি ও ধর্মীয় উপস্থাপনার মাধ্যমে উপস্থিত দর্শক ও ভক্তদের মুগ্ধ করে। পরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
এছাড়া ফরিদগঞ্জ উপজেলা থেকে আগত ছোট ধানুয়া গীতা স্কুলের ভক্তগনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তারা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানে এক ভিন্নমাত্রা যোগ করেন। বিভিন্ন ভক্তিমূলক সংগীত, গীতা পাঠ ও সাংস্কৃতিক আয়োজন উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
অনুষ্ঠানের আগের দিন সন্ধ্যায় এবং অনুষ্ঠান দিবসের দুপুরে বিশেষ গীতা পাঠ পরিচালনা করেন ঢাকার সাভার থেকে আগত পাঠক সুমন চক্রবর্তী। তার সুমধুর কণ্ঠে গীতা পাঠে উপস্থিত ভক্তবৃন্দ গভীর ধর্মীয় আবেগ ও ভক্তিমূলক পরিবেশ অনুভব করেন। গীতা পাঠ চলাকালে পুরো মন্দির প্রাঙ্গণে এক আধ্যাত্মিক আবহের সৃষ্টি হয়।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে দুপুরে প্রায় শত শত ভক্তবৃন্দের মাঝে মহাপ্রাসাদ বিতরণ করা হয়। ভক্তরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে একত্রে প্রাসাদ গ্রহণ করেন, যা সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা রামানুজ সরকার সবুজ। তার আন্তরিক তত্ত্বাবধান ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে পুরো আয়োজন সম্পন্ন হয়।
এদিকে অনুষ্ঠানে আগত ভক্তবৃন্দের নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ সনাতন মহাসংঘ চাঁদপুর জেলা কমিটির সদস্যরা। তাদের সার্বিক তৎপরতায় অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে শেষ হয়।
আয়োজকরা জানান, গীতা শিক্ষার প্রসার, নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা এবং সনাতন ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত রাখতেই প্রতি বছর এ আয়োজন করা হয়। ভবিষ্যতেও আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তারা জানান।
























