চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জে স্বর্ণের দোকানে সংঘবদ্ধ ডাকাতি, নাইট গার্ডকে হত্যা

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় সংঘটিত এক চাঞ্চল্যকর ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্বর্ণের দোকানে সংঘবদ্ধ ডাকাতির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নাইটগার্ডকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বেড়ে গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার গভীর রাতে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলা পাটবাজার এলাকায় অবস্থিত “নিউ আপন শিল্পালয়” নামের একটি স্বর্ণের দোকানে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। মুখোশধারী সংঘবদ্ধ ডাকাত দল পরিকল্পিতভাবে দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।

এরপর তারা দোকানের শোকেস ও আলমারি ভেঙে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ডাকাতির সময় বাজারের দায়িত্বে থাকা নাইটগার্ড ফরিদ ঘটনাটি টের পেয়ে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ডাকাত দল তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ঘটনার পর নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে এবং ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে তারা মরদেহটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়।

শনিবার ভোরে চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলা-রামগঞ্জ মহাসড়কের রান্ধুনীমুড়া এলাকায় স্থানীয়রা একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ করেন। কাছে গিয়ে তারা দেখতে পান, হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক ব্যক্তির লাশ পড়ে আছে। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।

পরবর্তীতে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা হলে জানা যায়, নিহত ব্যক্তি রামগঞ্জ পাটবাজারের নাইটগার্ড ফরিদ (মিজি বাড়ি এলাকার বাসিন্দা)। তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা থেকে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রামগঞ্জের ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এ ধরনের বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনা এলাকায় খুবই বিরল। ফলে তারা নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তারা দ্রুত ডাকাতদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে হাজীগঞ্জ এলাকাতেও এ ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, এক উপজেলার অপরাধের সঙ্গে অন্য উপজেলার সংযোগ থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মান্নান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে একাধিক টিম কাজ করছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। একইসঙ্গে রাতের নিরাপত্তা বাড়াতে টহল জোরদার করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ঘটনাটি দুই উপজেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি এখন সর্বস্তরের মানুষের।