চোরাই স্বর্ণের বেচাকেনার নিরাপদ স্থান যশোরের বাগআঁচড়ার স্বর্ণপট্টি

চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের শেষ গন্তব্য কি তবে জুয়েলার্স দোকানই? যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া বাজারের তথাকথিত ‘স্বর্ণপট্টি’ এলাকায় সাম্প্রতিক একটি ঘটনা এমনই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। চোরাই স্বর্ণ কেনাবেচা ও তা ফেরত দিতে অস্বীকৃতির অভিযোগে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে মেসার্স সততা জুয়েলার্স। দোকানটির ম্যানেজার সাজুর ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ ডিসেম্বর। শার্শা উপজেলার চালিতাবাড়িয়া গ্রামের আমজেদ হোসেনের ছেলে আমিরুল ইসলাম মিলনের বাড়ি থেকে চুরি হয় প্রায় ২ ভরি ৫ আনা স্বর্ণালংকার। আকস্মিক এই চুরিতে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়লেও অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য।
ভুক্তভোগী আমিরুল ইসলাম মিলনের ভাষ্য অনুযায়ী, খোঁজখবর নিয়ে তিনি জানতে পারেন— তার নিজের ছেলে বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার চুরি করে একই এলাকার রাড়ীপুকুর গ্রামের নুরালের ছেলে শুভর কাছে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে শুভর সহযোগিতায় চোরাই গহনাগুলো বিক্রি করা হয় বাগআঁচড়া বাজারের মেসার্স সততা জুয়েলার্সে। অভিযোগ রয়েছে, দোকানটির ম্যানেজার সাজু প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ওই স্বর্ণালংকার কিনে নেন।
চুরির স্বর্ণালংকারের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর গত ২৫ ডিসেম্বর ভুক্তভোগী আমিরুল নিজেই সততা জুয়েলার্সে গিয়ে ম্যানেজার সাজুর সঙ্গে কথা বলেন। ন্যায়বোধ থেকে তিনি গহনা ফেরত চান এবং প্রয়োজনে বিক্রয়মূল্যের টাকা পরিশোধের প্রস্তাবও দেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, সাজু নানা অজুহাতে গহনা ফেরত দিতে গড়িমসি শুরু করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সর্বশেষ শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে পুনরায় স্বর্ণালংকার ফেরত চাইতে গেলে ম্যানেজার সাজু ভুক্তভোগীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাকে হুমকি দেন। এতে ভুক্তভোগী পরিবার চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাগআঁচড়া বাজারের স্বর্ণপট্টি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই চোরাই স্বর্ণ কেনাবেচা একটি ‘খোলা গোপন রহস্য’। কার্যকর নজরদারি ও তদারকির অভাবে এমন অনিয়ম দিনের পর দিন চললেও তেমন কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে এবার সরাসরি একটি চুরির ঘটনায় একটি জুয়েলার্স দোকানের নাম উঠে আসায় পরিস্থিতি আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে সততা জুয়েলার্সের ম্যানেজার সাজু স্বর্ণালংকার কেনার কথা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না এটা আমার সিন্ডিকেটের বিষয় যা বলবে আমার সভাপতির বলবে।
স্বর্ণপট্টির সভাপতি মন্টু বলেন, আমরা ব্যবসায়ী, কেউ স্বর্ণ বিক্রি করলে আমরা কিনি। স্বর্ণ কেনাবেচাই আমাদের পেশা। স্বর্ণের গায়ে তো চুরি যাওয়া মাল লেখা থাকে না।
তবে চোরাই স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন স্থানীয়রা। তাদের মতে, এমন দায়িত্বহীন অবস্থানই চোরাই স্বর্ণের নিরাপদ বাজার তৈরি করছে।
বাগআঁচড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






























